মামলা তুলে না নেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, স্বামী গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যৌতুকের মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে স্বামী আবু সাঈদ ওরফে মিস্টারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রোববার (৮ মার্চ) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আবু সাঈদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা সাখইল গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সাহেব মিয়ার ছেলে।
র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের ৬ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী। মামলার পর থেকেই ওই গৃহবধূ বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলা মীমাংসার কথা বলে স্ত্রীকে বাড়িতে ডেকে নেন আবু সাঈদ। সেখানে তিনি স্ত্রীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু স্ত্রী রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মারেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই নারী এবং তার প্রচণ্ড রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি তার গর্ভপাত ঘটে এবং গর্ভের ছয় মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
ঘটনার পর ওইদিনই নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা এবং র্যাব-৫, সিপিসি-৩ জয়পুরহাটের একটি যৌথ আভিযানিক দল শনিবার রাতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১৩–এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ঘটনার পর থেকে আসামি আবু সাঈদ পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসএইচএ