বিজ্ঞাপন

শেরপুরে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, ইউপি চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ

শেরপুরে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, ইউপি চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ

শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নে ভিজিএফের চালের স্লিপ বিতরণকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। সংরক্ষিত নারী সদস্যদের কার্ড না দেওয়ায় সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ওই ইউনিয়নে ৪ হাজার ৯০০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ইউপি সদস্যদের প্রত্যেককে ৪৫০টি করে কার্ড দেওয়া হলেও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের কোনো বরাদ্দ না দেওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংরক্ষিত নারী সদস্য পারভীন আক্তারের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অপুকে পরিষদের ভেতরে অবরুদ্ধ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল হক জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ছিল প্রকৃত অসহায়দের মাঝে যেন কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনটি ওয়ার্ড মিলে একজন সংরক্ষিত নারী সদস্য থাকলেও তাদের কাউকেই কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশি মধ্যস্থতায় তাদের ১০০টি করে কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

সংরক্ষিত নারী সদস্য পারভীন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের একটি কার্ডও দেওয়া হয়নি, কোনো সম্মানও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে চেয়ারম্যান আমাকে ঘুসি মারেন এবং তার চালকও আমাকে আঘাত করেন। আমার চোখ এখনও ফুলে আছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও স্লিপ বিতরণে অনিয়ম ও চাল ওজনে কম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দুলাল অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের আদেশে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আসাদুজ্জামান অপু গত ২১ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশের টিম কাজ করছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নাইমুর রহমান/বিআরইউ