মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে বিমানবাহিনীর সদস্য অনন্যার মৃত্যু, এলাকায় শোকের মাতম

ঢাকার মিরপুরের বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বিমানবাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার গ্রামের বাড়ির এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরের নিচু কলোনী বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
আশেয়া সিদ্দিকা অনন্যা ওই এলাকার আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে এবং তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন।
স্বজনরা জানায়, আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা চার বছর আগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন। তিনি গতকাল ঢাকার মিরপুরের বাণিজ্যিক ভবনের একটি শপিং মলে যান। সেখানে দুপুরে হঠাৎ করে আগুন লেগে গেলে অনেকের সঙ্গে তিনিও ভবনে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে অনন্যাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে মৃত্যুবরণ করেন।
অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার পরিবার খুব গরিব, সে চাকরি পাওয়ার পরে তার পরিবার কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছে। তবে গতকাল হঠাৎ করে তার ছোট বোন সূর্বণাকে বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ কল দিয়ে জানায় তার বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে সেটা জানার পরে তার বাবা মা ও ছোট বোন গতকাল রাতে ঢাকায় যায়। পরে তারা কল দিয়ে জানায় সে রাতেই হাসপাতালে মারা গেছে।
তার মৃত্যুর খবরে এলাকার শোকের ছায়া নেমেছে। আমরা তাকে হারিয়ে হতভম্ব। অনন্যার জানাজা এখানে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা তাকে তার নানির কবরের পাশে দাফন করব।
তার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। সে যখন চাকরি তে যায় তখন তাকে ছাড়তে পারিনি এখন এভাবে হারিয়ে গেলো সেটা কিভাবে সহ্য করব। আমরা তাকে হারিয়ে সবকিছু হারিয়ে ফেললাম।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, আমি পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি, তার পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায় সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় ১১ তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/আরকে