টাঙ্গাইলে নির্দেশনা অমান্য করে স্কুল খোলা, শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। শহরের শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মুইদ নামে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পলাতক রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। মুইদ ভূঞাপুরের গোলাবাড়ি গ্রামের সোহেল রানার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাবালিয়া শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের নিচ থেকে মুইদ নামের এক শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের এক আয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুইদকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্লাস চালু রাখায় এত বড় দুঘর্টনা ঘটেছে। ইতোপূর্বেও টাঙ্গাইলের একাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হত্যাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও তা ধামাচাপা পড়েছে।
পথচারী রাসেল মিয়া বলেন, মুইদের মৃত্যুর দায় প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। কারণ একজন অভিভাবক যখন আবাসিকে রেখে যায়, তখন ওই শিক্ষার্থীর দায়ভার ওই প্রতিষ্ঠানের। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মুইদের মা লায়লা বেগম বেগম বলেন, আমার ছেলে আমাকে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজিব স্যার ভালো না। সজিব স্যারের কারণেই আমি মারা যাব। সজিব স্যারও আমাকে ফোন করে মুইদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতে। আমি দোষী ব্যক্তির বিচার দাবি করছি।
শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ বলেন, মুইদের সাথে তার বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়েছে। সে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে।
তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেয় না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মর্গে গিয়ে মরদেহও দেখেছি। ছেলেটির মুখ থেতলে গিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরিফুল ইসলাম/আরএআর