বিগত ১৬ বছর দেশে বিরোধী দল বলে কোনো কিছু ছিল না

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হাদি হত্যার বিচার যেন সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার হয়। কারণ যারা শুধু গুলি করেছে তারাই হত্যাকারী নয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, সেই ষড়যন্ত্রকে বাংলাদেশের মানুষের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে। শুধু প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষভাবে যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক বছরের পথচলা উপলক্ষ্যে এনসিপির রাজশাহী সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার মাহফিল প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন একটি নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের পথে যাওয়ার কথা। ফ্যাসিবাদ যে ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে গিয়েছে, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে তৈরি করা, বিনির্মাণ করার লড়াই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াই কোনো দলের পক্ষে, কোনো সরকারের পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সরকারি দলে যারা আছে আমরা অবশ্যই তাদের সমালোচনা করব। সরকারে যারা থাকে তাদের দায়িত্ব বেশি, তাদের সমালোচনা মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে হয়, সংশোধন করতে হয়। গণতন্ত্র কখনোই সম্ভব না, যদি শক্তিশালী বিরোধী দল, বিরোধী মত না থাকে। বিগত ১৬ বছর বিরোধী মত, বিরোধী দল বলে কোনো কিছু বাংলাদেশে ছিল না। আমরা যখন ইলেকশনে মানুষের কাছে গিয়েছি, সারা বাংলাদেশের মানুষ আমাদের কাছে এটাই বলেছে- ওসমান হাদি হত্যার বিচার যেন ভাইয়া এই মাটিতে হয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদেরকে ভারতের মাটিতে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। আমরা শুনেছি, আমরা দাবি জানাবো- অবিলম্বে বাংলাদেশের মাটিতে তাদেরকে এনে যেন বিচার কার্যকর করা হয়।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, আমরা দেখেছি ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড তারা উদ্বোধন করেছেন তাদের ইশতিহার অনুযায়ী তাদেরকে সাধুবাদ। কিন্তু আমরা পাশাপাশি এও বলেছিলাম যদি দুর্নীতি বন্ধ না হয়, যদি চাঁদাবাজি বন্ধ না হয়, যদি দখলদারিত্ব বন্ধ না হয়, যদি ঋণ খেলাপীদেরকে সংসদে এবং সরকারের ঠাঁই দেওয়া হয়, এ সকল ফ্যামিলি কার্ড কেবল হচ্ছে চোখ ধাঁধানো একটা কর্মসূচি। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমরা আহ্বান জানাবো যে সকল ঋণখেলাপী, লুটেরা, দুর্নীতিবাজদেরকে সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, নমিনেশন বিক্রি করা হয়েছে, সে সকল ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে যাতে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেয়। তারা যাতে অতিদ্রুত দেশের টাকা ব্যাংকে ফিরিয়ে দেয়।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১২ মার্চের জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করছি। ১২ মার্চ নতুন জাতীয় সংসদের অধিবেশন, সেই অধিবেশনে শুনছি আমরা ফ্যাসিস্টের দোসর, ফ্যাসিস্টের লেজুর রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দেবে, ভাষণ দেবে। আপনাদের সামনে স্পষ্টভাবে বলে যাচ্ছি, কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য ১২ মার্চ আমরা জাতীয় সংসদে যাচ্ছি না। আপনারা সবাই হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন না? আমরা সবাই দল, মত, নির্বিশেষে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছি। ফলে সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে আমাদের সেই লড়াই চলমান থাকবে। আপনাদেরকে সচেতন থাকার, ১২ মার্চ সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির প্রমুখ।
শাহিনুল আশিক/আরএআর