মাদক ও রিল কাণ্ডে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে সাজা

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (জিলা স্কুল) চত্বরে মাদকসহ অবস্থান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের ছবি ব্যবহার করে রিল তৈরি ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং আরও দুই শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে অনুষ্ঠিত শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মতাহার-উল-আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নামাজের সময় মুসল্লিরা বিদ্যালয়ের মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এছাড়া সন্ধ্যার পর এবং তারাবির নামাজের সময় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অকারণে ঘোরাফেরা ও আড্ডা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ইফতার পার্টি, জন্মদিন, পুনর্মিলনীসহ কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাদকদ্রব্যসহ বিদ্যালয় চত্বরে অবস্থান করার অভিযোগে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ সিদ্দিকিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের ছবি ব্যবহার করে রিল তৈরি ও তা অনলাইনে প্রচার এবং শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাসারাদ জামি জিমামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরেক শিক্ষার্থী মো. মনার হোসেনকেও শোকজ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই তিন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মতাহার-উল-আলম বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার স্বার্থেই শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এমএএস