বড় ভাইয়ের পাশে সেই জামায়াত নেতার দাফন সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মফিজুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৩টায় উপজেলার সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে বড় ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের কবরের পাশেই তাকে শায়িত করা হয়।
জানাজায় বিভিন্ন স্তরের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ নিহত মফিজুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর হোসেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল বারী, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াত নেতা দারুস সালাম, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির শাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম এবং দামুড়হুদা থানা আমির নায়েব আলীসহ অনেকে।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান।
এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকার কাকরাইল এলাকায় মাওলানা মফিজুর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এবং তার ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা মফিজুর রহমান টানা ১০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মারা যান।
এদিকে জামায়াতকর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে ৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর জীবননগর থানা-পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথ অভিযানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তার বাবা বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিন এবং হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আফজালুল হক/এএমকে