• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. কামরুল ইসলাম

গোপনীয়তার নীতিব্যবহারের শর্তাবলিযোগাযোগআমাদের সম্পর্কেআমরাআর্কাইভবিজ্ঞাপন

৯৫ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোন, ঢাকা ১২১২।

+৮৮০ ৯৬১৩ ৬৭৮৬৭৮

phone+৮৮০ ১৩১৩ ৭৬৭৭৪২

whatsapp+৮৮০ ১৭৭৭ ৭০৭৬০০

info@dhakapost.com

বিজ্ঞাপন

  1. সারাদেশ
  2. ঝালকাঠি

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন পেয়ারা আর শীতলপাটির শহর ঝালকাঠিতে

মো. শাহীন আলম
ঝালকাঠি
১৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:২২
অ+
অ-
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন পেয়ারা আর শীতলপাটির শহর ঝালকাঠিতে

ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের তালিকায় রাখতে পারেন নদীবিধৌত জেলা ঝালকাঠির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট এই জেলাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী–খাল আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি, এই নিয়ে ঝালকাঠি’—এটাই জেলা পরিচিতর ব্র্যান্ডিং স্লোগান, যা স্থানীয় জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে কারিগরদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বহুদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত। আবার বর্ষা মৌসুমে ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে ওঠে। নদী, খাল আর সবুজে ঘেরা এই নদীবেষ্টিত জেলায় বয়ে গেছে সুগন্ধা, বিষখালী, ধানসিঁড়ি ও বাসন্ডা নদী। রয়েছে দেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ 'গাবখান চ্যানেল'।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা ছৈলার চর, শের-ই-বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের জন্মস্থান ও শৈশব কাটানো মাতুলালয় সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি, পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ইকোপার্ক, জেলা শহরের সুগন্ধা নদীর তীরে পৌর মিনি পার্ক, ঐতিহাসিক কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি এবং বাউকাঠি–হিমানন্দকাঠি ভাইরাল সড়ক—যার পাশের নদীর দৃশ্য অনেকের কাছে মেরিন ড্রাইভের মতো অনুভূতি দেয়—এসব স্থান ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে ধীরে ধীরে আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনও সীমিত, তবে ছুটির দিনে কিংবা অবসরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ঘুরে আসতে পারেন ঝালকাঠির যেসব জায়গায়।

বিজ্ঞাপন

শের-ই-বাংলার জন্মভিটা সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। জেলা শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্থান।

১৭শ শতকে তার মাতামহ শেখ শাহাবুদ্দিন প্রায় ১০০ একর জমির ওপর মুঘল স্থাপত্যে এই জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। কমপাউন্ডে তিনটি ভবন, কারুকার্যখচিত প্রবেশদ্বার, পুকুর ও ফুলের বাগান রয়েছে, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর এখানেই জন্মগ্রহণ করেন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং এখানকার মক্তব থেকেই তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকা এই জমিদার বাড়িতে ‘শের-ই-বাংলা স্মৃতি পাঠাগার’সহ কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ন্যাশনাল ইকোপার্ক

ঝালকাঠি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে কিফাইতনগর এলাকায় গাবখান, ধানসিঁড়ি, সুগন্ধা, বিশখালী ও বাসন্ডা—এই পাঁচ নদীর মোহনার কাছে অবস্থিত প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ন্যাশনাল ইকোপার্ক। প্রায় দুই দশক আগে এখানে একটি জাতীয় ইকোপার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৫ একর খাস জমি নির্ধারণ করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে বালু ভরাটসহ কিছু কাজও শুরু হয়।

কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে পরিকল্পিত ইকোপার্ক এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তবুও নদীর মোহনা ও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশ, সুবিশাল মাঠের কারণে এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে একটি ঘুরে বেড়ানোর জায়গা হয়ে উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্র হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছৈলার চর

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা ছৈলার চর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি স্থান। প্রায় ৭০ একর আয়তনের এই চর এক যুগেরও বেশি সময় আগে নদীর বুকে জেগে ওঠে। চরের পুরো এলাকাজুড়ে রয়েছে লক্ষাধিক ছৈলা গাছের বন।

ছৈলা গাছের পাশাপাশি এখানে কেয়া, হোগল, মাদারসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ জন্মেছে। এসব গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে শালিক, ডাহুক, বকসহ নানা প্রজাতির পাখি। শীত মৌসুমে এখানে অতিথি পাখিরও দেখা মেলে। পর্যটকদের জন্য প্রাকৃতিক নৈসর্গিক স্থানটি বেশ আকর্ষণীয়। ঝালকাঠি থেকে নৌ ও সড়ক পথে যাওয়া যায় এই ছৈলার চরে।

ইতিহাসের সাক্ষী কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি

ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি। সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ি এক সময় এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।

বিক্রমপুরের জমিদার রাজা রাম সেনগুপ্ত ১৯ শতকের শুরুতে বাড়িটি নির্মাণ করেন। মূলত তার দুই ছেলের জন্য দুটি পৃথক বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল, যা ‘দশ আনা’ ও ‘ছয় আনা’ জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল।

এখানে একটি নাটমঞ্চ, মন্দির এবং বিভিন্ন স্থাপনা ছিল, যেখানে একসময় নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে জমিদার বাড়ির বেশিরভাগ অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে এর স্থাপত্য ও ইতিহাস এখনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

সুগন্ধা নদীর তীরে পৌর মিনি পার্ক

জেলা শহরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ঝালকাঠি পৌর মিনি পার্ক। সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত এই পার্কটি স্থানীয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি ঘুরে বেড়ানোর জায়গা। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবার-পরিজন, শিশু-কিশোর এবং তরুণদের ভিড় দেখা যায় এখানে।

পার্কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুগন্ধা নদীর দৃশ্য দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। অনেকেই নদীর তীরে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। তবে পার্কটির পরিসর ছোট হলেও দর্শনার্থীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।

মেরিন ড্রাইভ আদলে বাউকাঠির ভাইরাল সড়ক

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে ঝালকাঠির বাউকাঠি–হিমানন্দকাঠি সড়ক, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘ভাইরাল সড়ক’ নামে পরিচিত। সদর উপজেলার বাউকাঠি থেকে হিমানন্দকাঠি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি তার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রাস্তার দুপাশে সবুজ গাছপালা আর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শান্ত ছোট নদী এই সড়ককে করেছে অনন্য। আঁকাবাঁকা পথ আর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে অনেকেই এখানে ছবি তুলতে ও ঘুরতে আসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সড়কের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এটি এখন নতুন একটি পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অনেকে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন।

পেয়ারা বাগানের জন্য বিখ্যাত ঝালকাঠি

ঝালকাঠির নাম এলেই সবার আগে মনে পড়ে পেয়ারা বাগানের কথা। জেলার উত্তরে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে রয়েছে পেয়ারা বাগান। বর্ষা মৌসুমে এসব বাগানের চারপাশে জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারা বাজার। নৌকায় করে কৃষকরা বাগান থেকে তোলা পেয়ারা এনে নদীর মাঝখানে বিক্রি করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা নৌকায় এসে এসব পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। এই ভাসমান বাজার ও বাগান ঘিরে পর্যটকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আলাদা আকর্ষণ। বর্ষা মৌসুমে অনেকেই নৌকায় করে পেয়ারা বাগানের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়ান। সবুজ বাগান, পানির ওপর ভাসমান নৌকা আর গ্রামের শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প

ঝালকাঠির আরেকটি বড় পরিচিতি হলো শীতলপাটি শিল্প। জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো ঐতিহ্যবাহী এই পাটি তৈরির কাজ চলে। স্থানীয় ভাষায় পাইত্রা গাছের ছাল থেকে তৈরি এই শীতলপাটি বহুদিন ধরেই গ্রামীণ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দক্ষ কারিগররা হাতে বুনে তৈরি করেন নানা নকশার পাটি। তাদের কাজ দেখতে রাজাপুর ও নলছিটির হাইলাকাঠি, ডহরশংকরসহ বিভিন্ন গ্রামে যেতে পারেন এবং সরাসরি পাটি কিনতে পারেন।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও জেলায় এখনো পর্যাপ্ত মানসম্মত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। তবে সম্ভাবনাময় এসব স্থানকে ঘিরে প্রশাসন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচ নদীর মোহনায় প্রস্তাবিত ধানসিঁড়ি ইকোপার্ক প্রকল্পটি সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। কিছু আইনি জটিলতা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের একটি বড় ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মো. শাহীন আলম/এএমকে

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

পর্যটনঈদুল ফিতর

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিকাশ-এ রঙিন ঈদ কার্ডসহ সালামি বাড়িয়ে দিচ্ছে ঈদের আনন্দ

বিকাশ-এ রঙিন ঈদ কার্ডসহ সালামি বাড়িয়ে দিচ্ছে ঈদের আনন্দ

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা ট্রাভেল মার্টের অফিসিয়াল এয়ারলাইন পার্টনার

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা ট্রাভেল মার্টের অফিসিয়াল এয়ারলাইন পার্টনার

ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন হিমালয় কন্যাখ্যাত পঞ্চগড়ের যেসব স্থানে

ঈদের ছুটিতে যেতে পারেন হিমালয় কন্যাখ্যাত পঞ্চগড়ের যেসব স্থানে

ঈদুল ফিতর কবে? জানাল অস্ট্রেলিয়া

ঈদুল ফিতর কবে? জানাল অস্ট্রেলিয়া