শেরপুরে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি-কালবৈশাখী, ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষক

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা। শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের বাজার ও আশপাশের এলাকায় তুলনামূলক বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইফতারের পর থেকেই ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। পরে হঠাৎ করেই কিছু এলাকায় তীব্র শিলাবৃষ্টি দেখা দেয়। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর পরিমাণে শিল পড়তে দেখা যায়। শিলের আকার ও পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক এই শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। পাশাপাশি কৃষকদের ধানের জমি ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইগাতী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক আতিকুর রহমান খান বলেন, হঠাৎ করেই এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনও দেখিনি। ঝিনাইগাতী বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর শিলা পড়েছে। এতে অনেকেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে শুনছি। তবে রাত হওয়ায় এখনো পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন বলেন, “কিছুক্ষণ আগে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। কৃষি খাতে ক্ষতির বিষয়টি কৃষি বিভাগ দেখবে। যদি কৃষকদের ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা করার সুযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের ঘরবাড়ি বা টিনের চাল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে এবং ফান্ড থাকলে ক্ষতিগ্রস্তদের টিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
নাইমুর রহমান তালুকদার/এসএইচএ