ঝালকাঠি পৌরসভার খাল খননে অনিয়ম, ঠিকাদারকে শোকজ

ঝালকাঠি পৌরসভার সাতটি খাল খনন কাজ অসম্পূর্ণ রেখে বন্ধ করে দেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমির বিল্ডার্স লিমিটেডকে ব্যাখ্যা তলব করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স ডিবার (ব্ল্যাকলিস্ট) ঘোষণার সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে পৌরসভা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টি.এম. রেজাউল হক রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি পৌর এলাকার সাতটি খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে। এর মধ্যে ছয়টি খালের কাজ শুরু হলেও একটি খালের কাজ শুরুই করা হয়নি। শুরু করা ছয়টি খালের কোনোটিই সম্পূর্ণ খনন শেষে পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় হ্যান্ডওভার ও কমপ্লিশন সনদ গ্রহণ বা প্রদান করা হয়নি।
বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক হয়নি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুটি খালের আংশিক খনন কাজ করা হলেও এখন পর্যন্ত তা হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে কাজ বুঝে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি।
বিজ্ঞাপন
পত্রে আরও বলা হয়, খাল খনন কাজের জন্য চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ টাকার বিপরীতে ইতোমধ্যে সম্পাদিত কাজের আনুপাতিক হারে ৫২ লাখ ৭১ হাজার ১১ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় পৌরবাসী প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খালগুলো যথাযথভাবে খনন না হলে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পত্রে।
কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিলের আবেদন করেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি আইনি নোটিশ দিয়ে হুমকি দিচ্ছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর লঙ্ঘন।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঝালকাঠি পৌরসভা।
সাংবাদিক ও নাট্যকর্মী শফিউল ইসলাম সৈকত বলেন, খাল খননের কাজের কোনো বাস্তব কোনো ফসল চোখে পড়ছে না। অধিকাংশ খালই আগের মতো ময়লা ও কচুরিপানায় ভরে রয়েছে, ফলে বর্ষা এলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে এবং মশা-মাছির উপদ্রবও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পৌরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
খাল খননের কাজ হয়েছে এমন কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকা, খালগুলো আবারও ময়লা ও কচুরিপানায় ভরে যাওয়া এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ার বিষয়ে ঠিকাদার সরোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, চুক্তিতে আড়াই ফুট খননের কথা থাকলেও তিনি ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত খনন করেছেন।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে পৌরসভা খালভিত্তিকভাবে কাজ গ্রহণ করে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিল পরিশোধ করেছে। তার বিলের চিঠি গ্রহণ না করে উল্টো তাকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললেও এসংক্রান্ত কোনো হ্যান্ডওভার বা কমপ্লিশন ডকুমেন্টস দেখাতে পারেননি তিনি।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টি এম রেজাউল হক রিজভী বলেন, ঠিকাদার কাজ ও কাজ হস্তান্তরের কোনো সন্তোষজনক দৃশ্যমান প্রমাণ দেখাতে পারেননি, খালগুলোর অবস্থাও আগের মতোই রয়েছে।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত ও লাইসেন্স ডিবারসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. শাহীন আলম/এএমকে