বাবার উন্নত চিন্তার পথেই হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আধুনিক ও উন্নত চিন্তা থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উন্নয়ন এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খাল খননের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের সিংজানি খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খাল খনন বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা খালে মাছ ও হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে কম খরচে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমেই খননকাজ করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। মেশিনে ১০ লাখ টাকা লাগলেও শ্রমিক দিয়ে করলে ১২ লাখ লাগবে—তবুও শ্রমিক দিয়েই কাজ হবে, যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, বিএনপি সরকার সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি জানান, পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য আগামী ২৩ মার্চ ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, গোবিন্দগঞ্জে ১,৮৪২ একর জমির মধ্যে ৪০০ একর জায়গায় ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং এটি এখানেই বাস্তবায়িত হবে। পূর্ববর্তী সরকারের সময় এটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলেও তা আর সম্ভব হবে না। বন্ধ থাকা সুগার মিল চালু এবং ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
গোবিন্দগঞ্জের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এমপি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি এসেছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। একইসঙ্গে তিনি মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে, বেলা ১১টায় মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় মাটি কেটে সিংজানি খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি নুরুল্লার বিল থেকে শুরু হয়ে দেওয়ানতলা হয়ে বাঙালি নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে খালটি ভরাট হয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান গাইবান্ধা সফরকালে অনুরূপ একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাইনুল ইসলাম সাদিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী একই ইউনিয়নের একটি স্লুইস গেট পরিদর্শন করেন।
এএমকে