চার স্তরের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ

এবারও উপমহাদেশসহ দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারও থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মোতায়েন থাকবে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি।
বিজ্ঞাপন
ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।
নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিরা টুপি, জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছাতা বহনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের ঘটনার পর থেকে প্রতিবছরই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবারও চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠ ও আশপাশ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট ও পিকেট। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারের মধ্যে চারটি পুলিশ এবং দুটি র্যাব ব্যবহার করবে।
তিনি আরও জানান, মাঠজুড়ে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি চারটি ড্রোন ক্যামেরা ও ছয়টি ভিডিও ক্যামেরা মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তায় থাকবে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, সুইপিং টিম ও কুইক রেসপন্স টিম। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নাঈমুল ইসলাম বলেন, স্নাইপার, ড্রোন ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। র্যাব সদস্যরা পোশাক ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের হুমকি নেই বলেও জানান তিনি।
ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, মাঠ প্রস্তুতকরণ, রং করা, অজু ও গোসলের ব্যবস্থাসহ মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার্থে ঈদের দিন সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
প্রসঙ্গত, ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী এবং এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। এ জঙ্গি হামলায় পুলিশসহ ১৬ জন মুসল্লি আহত হন। তবু এ ঈদগাহ ময়দানের ধারাবাহিক জামাত আয়োজনে ছন্দপতন ঘটেনি কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে দুই বছর এ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের কোনো জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।
এই ঈদগাহের যাত্রা শুরু ১৭৫০ সালে। তবে ১৮২৮ সালে প্রথম আনুমানিক সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সেই থেকেই এই ঈদগাহসহ পুরো এলাকার নামকরণ হয় ‘শোলাকিয়া’। তখন থেকেই এ ঈদগাহ ময়দানটিকে সোয়া লাখিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবে লোকজন ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে উচ্চারণ বিবর্তনে এ ঈদগাহ ময়দানের নাম শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবেই সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠে। ১৮২৮ সাল থেকে জামাত গণনায় এবার ১৯৯তম জামাত হবে।
মোহাম্মদ এনামুল হক হৃদয়/এসএইচএ