বিকল্প ট্রেন ধরতে ৫ কিলোমিটার পথ হাঁটছেন যাত্রীরা

ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বগুড়ার সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ীতে লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। গন্তব্যে পৌঁছাতে নিরুপায় হয়ে যাত্রীরা সান্তাহার স্টেশনে নেমে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনে গিয়ে বিকল্প ট্রেন ধরছেন।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা ও রাজশাহী থেকে আসা যাত্রীরা সান্তাহার জংশনে নামছেন। সেখান থেকে কেউ ভ্যান বা অটোরিকশায়, আবার অনেকে ভারী ব্যাগ ও পরিবার নিয়ে রেললাইন ধরে হেঁটে ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনের দিকে ছুটছেন। ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনে বিকল্প ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করায় যাত্রীরা সেখানেই ভিড় করছেন।
ট্রেনের যাত্রী জুয়েল বলেন, আমি রাজশাহী থেকে আসতেছি। ২৪ জন একসাথে আছি। আমার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার জমগ্রামে। আমরা রড ডিপার্টমেন্টে কাজ করি। বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে সান্তাহার জংশনে এসে নেমেছি। টিটিই আমাদের বলে দিলো ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনে যেতে। ২০ টাকার মতো ভাড়া নেবে। কিন্তু আমাদের থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মোছা. তানিয়া বলেন, ঈদের ছুটিতে বাসায় যাব। আমাদের তো আনন্দ আছে। ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েছি। ট্রেনটি সান্তাহার আমার পর আমাদের নেমে দেয়। সেখানে শুনি অন্য একটি ট্রেন নাকি এক্সিডেন্ট করেছে। সেখান থেকে আমাদের এখানে আসতে বলা হয়েছিল। কষ্ট করে অটো ধরে এসেছি।
বিজ্ঞাপন
মো. ইদুল নামে এক যাত্রী বলেন, আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। রামজান মাস রোজা থেকে ভোগান্তি করা ছাড়া উপায় নেই। সান্তাহার থেকে অটোতে করে এখানে (ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশন) এসেছি।
রিমন নামে এক ট্রেন যাত্রী বলেন, আমি নায়ারণগঞ্জ থেকে কমলাপুর এসে ট্রেনে চড়েছি, ঠাকুরগাঁও যাব। পরে শুনতে পাই ট্রেন দুর্ঘটনা হয়েছে। আমি পরে ৫ কিলোমিটার হেঁটে সান্তাহার থেকে ছাতিয়ানগ্রাম এসেছি। জীবনের প্রথম এতো রাস্তা হেঁটে আসলাম। অনেক কষ্ট হয়েছে। আমার মতো সব মানুষেরই অনেক কষ্ট হইছে।
বিজ্ঞাপন
জানতে চাইলে আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার হাসিবুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঈদযাত্রাতে মানুষ যেন বাড়িতে যেতে পারে এজন্য বিকল্প পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা সান্তাহার জংশনে নেমে ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনে আসবে। সেখানে ট্রেন বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন,পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন ছাতিয়ানগ্রাম গিয়ে স্টপেজ দিলে যাত্রীরা নেমে আবার সান্তাহার গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়বেন। ওই ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নামে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করবে। আর ছাতিয়ানগ্রাম গিয়ে দাঁড়ানো ট্রেনটি একতা এক্সপ্রেস নামে পঞ্চগড় অভিমুখে যাত্রা করবে। এছাড়া বরেন্দ্র এক্সপ্রেসে আসা যাত্রীরাও ওই ট্রেনে উঠবেন।
প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
চম্পক কুমার/আরএআর