আড়াই বছরের শিশুকে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার চাচির

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার চাচি কল্পনা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আবদুর রহমানের মেয়ে।
অভিযোগ উঠেছে, কল্পনা আক্তার নুজাইফাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শিশু নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে শিশুটির মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামবাসী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কল্পনা তার অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় চাচি কল্পনা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিউল আলম ইভান/এমটিআই