ঈদের আগের দিন কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী মোশাররফ

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় জীবন থেমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে ১২ দিন পর বাড়ি ফিরলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের প্রবাসী মোশাররফ হোসেন (৪০)।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ গ্রহণ শেষে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে মুহূর্তেই নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভাবের সংসারে একটু স্বস্তি ফেরাতে প্রায় ৮ বছর আগে প্রবাস জীবন বেছে নিয়েছিলেন মোশাররফ। সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের পাশে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে নিরলস পরিশ্রম করতেন। নিজের কষ্ট ভুলে প্রতিনিয়ত ভেবেছেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু গত ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে মিসাইল হামলায় থেমে যায় তার জীবনসংগ্রাম।
বাবা মো. সূর্যত আলী ও মা জহুরা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ। মায়ের আহাজারি থামছেই না। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। স্ত্রী কবরী আক্তার যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না- যার সঙ্গে কিছুদিন আগেও স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, সেই মানুষটি আজ নিথর হয়ে শুয়ে আছেন তার সামনে।
বিজ্ঞাপন
স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, ঘটনার আগের রাতেও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘ঈদের আগে টাকা পাঠাবো, ছেলেদের জন্য কিছু কিনো।’ সেই আশ্বাসই এখন পরিণত হয়েছে অসহ্য স্মৃতিতে— যা মনে পড়লেই ভেঙে পড়ছেন তিনি।
দুই শিশু সন্তান মাহিম (১৫) ও মিহান (৬) এখনো পুরো বাস্তবতা বুঝে উঠতে পারেনি। ছোট্ট মিহান কখনো বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো আশপাশের কান্না দেখে বিস্মিত হয়। হয়তো সে এখনো বিশ্বাস করছে, বাবা একটু পরেই উঠে দাঁড়াবেন।
তিন বছর আগে অল্প কিছু দিনের জন্য দেশে এসেছিলেন মোশাররফ। এরপর আবার ফিরে যান পরিবারের স্বপ্ন পূরণের পথে। কিন্তু সেই যাত্রা আর শেষ হলো না জীবনের আলো নিয়ে— শেষ হলো এক করুণ পরিণতিতে। বিকেল ৫টায় তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহ আসে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
আরিফুল ইসলাম/আরএআর