ঈদের নামাজ পড়েই দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মধ্যরাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের একদিন পরেই দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঈদের নামাজ পড়েই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই পক্ষের ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত ১২টার দিকে এ দুই পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। ওই দিনের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছিল। এরপর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে। পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সী (৬৫) ও অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের কামরুল মিয়া (৪৫)। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত নয়টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কামরুল মিয়ার সঙ্গে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর গ্রামের দুই পক্ষই ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। টর্চলাইট জ্বালিয়ে ঘণ্টাখানেক এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও এলাকার মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়। পুনরায় শনিবার দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী শনিবারের সংঘর্ষে ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। এ সংঘর্ষ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়ার মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছে। পাশাপাশি এরা পরস্পর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। বৃহস্পতিবার প্রথমে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি ও পরবর্তীতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার পুনরায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
জহির হোসেন/এসএইচ