ঈদুল ফিতরের দিনে ধরলা পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদুল ফিতরের দিনে কুড়িগ্রামের ধরলা সেতু ও আশপাশের নদী রক্ষা বাধে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়েছে। জেলার একমাত্র জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ধরলা নদীর তীর। এই নদীর সেতুপাড়ে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দিনভর ভিড় জমে শহরের ধরলা নদী সংলগ্ন ধরলা সেতুতে।
বিজ্ঞাপন
ঈদের নামাজের পর পরেই বাড়তে থাকে জনসমাগম। সন্ধ্যার পর তা রূপ নেয় উৎসবমুখর পরিবেশে। চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউবা এসেছেন সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতে। নদীর নির্মল বাতাস, প্রাকৃতিক দৃশ্য ও নির্মল পরিবেশ দর্শনার্থীদের আনন্দে উদ্বেলিত করেছে। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুরেছেন টি বাধ এলাকা।
উলিপুর থেকে আসা জোসনা বেগম (৫০) বলেন , প্রতিবছর আমি এখানে পরিবার নিয়ে আসি। এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত। সেতুর মাঝ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ডিভাইডার, তাই সহজে চলাচল করা যাচ্ছে। এটি বিনোদনের ভালো জায়গা।
জাহিদ হোসেন (১৩) জানায়, আম্মুর সাথে ধরলা পাড়ে বেড়াতে এসেছি। এখানে এসে সেলফি তুললাম এবং ফুসকা খেলাম। খুব ভালো লাগলো।
বিজ্ঞাপন
ধরলা ব্রিজে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ চালু করেছে ওয়ান ওয়ে সিস্টেম, যা দর্শনার্থীদের জন্য এনেছে স্বস্তি। ঈদের এই মিলনমেলাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় কোনো বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি হয়নি।
স্থানীয়দের পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা অনেকেই এসেছেন প্রিয় নদীর পাড়ে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে। দূরদুরান্ত থেকে পর্যটক তুলনামূলক কম এলেও স্থানীয়দের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ঈদ মেলা চলবে আরও চার থেকে পাঁচ দিন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে ধরলা পাড়ে প্রতি বছরের মানুষের ভিড় জমে। এবারে ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ