বগুড়ায় বোনের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়ে হামলার শিকার নারী নিহত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বোনের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে এসে প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলায় উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন, বোনের স্বামী ও দুই সন্তানসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার নিহতের বড় বোন মোছা. উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে প্রতিবেশী কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীহীন এই নারী সম্প্রতি ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তই পরিণত হয় চিরবিদায়ের বেদনায়।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উম্মে হাফিজার সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বরও একই বিরোধের জেরে হাফিজা ও তার ছেলেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
হামলার দিন সন্ধ্যায় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে হাফিজা ও উর্মি আদমদীঘি বাজারে গেলে অভিযুক্তরা রামদা, কুড়াল, শাবল ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম লিটনের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে হাফিজা, তার দুই সন্তান ও উর্মি তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে তারা স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উম্মে হাবিবা উর্মি।
এ ঘটনায় উম্মে হাফিজা বলেন, আমার ছোট বোন স্বামীহীন অবস্থায় ঈদ করতে আমাদের বাড়িতে এসেছিল। একটু সুখের আশায় এসেছিল কিন্তু আমরা তাকে আর বাঁচাতে পারলাম না। আমার স্বামী এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
আব্দুল মোমিন/এমএসএ