রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না ট্রেনটির

কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গেটম্যানের সঙ্গে ঢাকা মেইল ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকা মেইল ট্রেনটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না গেটম্যানের। গেটম্যানের সিগন্যাল না পেয়ে রেলক্রসিংয়ে উঠে যায় বাসটি ফলে মুহূর্তেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকা মেইল ট্রেনটি যখন লালমাই ক্রস করে তখনই পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের সিগন্যাল পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে গেটম্যানের সঙ্গে কমিনিউকেশনে গ্যাপ হয়ে যায়। যখন গেটম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে ততক্ষণে বাসটি ক্রসিংয়ে উঠে গিয়ে ট্রেনটির মুখে পড়ে। এ ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে আমরা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আনা হচ্ছে বলে ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
আরিফ আজগর/আরএআর