জনগণকে ভালো রাখা বিএনপির কমিটমেন্ট : ফকির মাহবুব আনাম স্বপন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেছেন, বিএনপির অন্যতম প্রধান কমিটমেন্ট হলো জনগণকে ভালো রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সে জন্য আমাদের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরের দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আম্বাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে কাজ করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জনগণ ভোট দেওয়ার পরপরই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য কার্ডও দেওয়া হবে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ১০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী দাবি করেন, একটি দলের শাসনে দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ স্বস্তিতে ছিল না, এখন মানুষ ভালো আছে এবং সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করছে। জনগণের আস্থা অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের নির্বাচিত করেছে, তাই এখন জনগণের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মী, প্রশাসন, পুলিশসহ সকলকে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সালিশের নামে অনিয়ম ও দখলবাজি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া কামনা করেন।
“এসো মিলি প্রাণের মেলায়, ফিরে যাবো স্মৃতির ভেলায়” স্লোগানে আয়োজিত এই পুনর্মিলনীতে সভাপতিত্ব করেন পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক শিক্ষার্থী নুরন্নবী শিহাব।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা জুবায়ের হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি এম রতন হায়দার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন এবং মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর ইকবাল।
পুনর্মিলনীতে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন। এর মধ্যে ছিলেন ১৯৭৩ ব্যাচের খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ১৯৭৫ ব্যাচের শাহজাহান, ১৯৮১ ব্যাচের সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুসলিম উদ্দিন, ১৯৭৮ ব্যাচের শাহীনারা এবং ১৯৮৮ ব্যাচের সেলিনা বেগম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সালাউদ্দিন সাগরের কথায় এবং এস কে সাগর শানের সুর ও কণ্ঠে নির্মিত থিম সং পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনীর সমাপ্তি ঘটে।
আরিফুল ইসলাম/এসএইচএ