দখল হওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করা হবে : প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, আমাদের ঘরবসতি বাড়ছে, কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে, পরিকল্পনার অভাবে পানি জমে থাকছে—এই পানি যাবে কোথায়? আল্লাহ আমাদের খালের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ড্রেনেজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। খাল আমাদের লাইফলাইন, অথচ আমরা সেই খালই বন্ধ করে দিচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (২২ মার্চ) ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় তুলাতুলির খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ভূগর্ভস্থ ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি তুলছি, এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং নানাভাবে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এ অঞ্চলে তেমন কলকারখানা নেই, মানুষের জীবিকার প্রধান উপায় কৃষি। এই কৃষিকাজের জন্য পানির প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রাস্তা কম, কিন্তু আল্লাহ আমাদের নদীপথ দিয়েছেন, যাতে আমরা সহজেই পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করতে পারি। যেখানে খালগুলো সচল রয়েছে, সেখানে বাজারগুলোও জমজমাট।
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তা চলমান রেখেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এখন তাদেরই সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনস্বার্থে আবারও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় খাল দখল হচ্ছে। খালের দিকে তাকালেই বোঝা যায় কারা দখল করছে—তারা প্রভাবশালী ও শক্তিশালী। তাদের বয়কট করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, কোনো সাধারণ কৃষক বা খেটে খাওয়া মানুষ খাল দখল করে না। দখল হওয়া প্রতিটি খাল উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করে মানুষের জীবনধারাকে নতুনভাবে সাজানো হবে, ইনশাআল্লাহ। এটি আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি।
তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, খাল যেন সঠিকভাবে খনন হয়, শুধু নামমাত্র খনন না হয়। তিনি নিজে মেপে দেখবেন এবং এমপিকেও তা মেপে দেখার জন্য বলেছেন। পাশাপাশি জনগণকে কাজ বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরিসহ আরও অনেকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ উপ-প্রকল্পের আওতায় তুলাতুলির খালসহ মোট ২৩ দশমিক ০৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং প্রায় ৬ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ করা হবে। এছাড়া তিনটি কালভার্ট এবং একটি ডব্লিউএমসিএ অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আংগারিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমি সরাসরি উপকারভোগী হবে। এতে ১ হাজার ৮৮১টি পরিবারের সদস্যরা সরাসরি সুবিধা পাবেন।
শাহীন আলম/এসএইচএ