ভোলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১৫

ভোলা সদর উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় একে অপরকে দুষছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন হাজী বাড়ির দরজায় এ ঘটনায় ঘটে।
সংঘর্ষে সাইদুল হক পক্ষের আহতরা হলেন-আব্বাস, মিনারা, নাহিদা, সামসুদ্দিন, রাসেল, নুরুদ্দিন, মেহেদী ও হুজাইফা এবং মো. মফিজ পক্ষের আহতরা হলেন- রাসেল, মফিজ, নাহার শাকিল, শরীফ ও রাইসুল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাইদুল হক ও মো. মফিজ তারা দুজনেই ওই একই বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে আড়াই শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার বিষয়টির সমাধানের জন্য উভয়পক্ষ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে সালিশ বসান এবং তা চলছিল। সালিশের একপর্যায়ে এদিন বিকেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সালিশদারদের সামনেই উভয়পক্ষের নারী পুরুষরা লাঠিসোঁটা হাতে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে মো.মফিজ পক্ষের মো. রাকিব অভিযোগ করে বলেন, জমির বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশ চলছিল। সালিশের একপর্যায়ে সাইদুল হক পক্ষের লোকজন আমাদের উপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের ৮-১০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে মামলা করব।
অপরদিকে সাইদুল হক পক্ষের মো. সামসুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিল মো. মফিজ পক্ষ। আজকে জমিটি বুঝে নেওয়ার জন্য মাপ চলছিল। একপর্যায়ে তারা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের ১০-১২ জন গুরুতর আহত হয়েছে, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে সেসময় উপস্থিত থাকা সালিশদারদের মধ্যে আহাম্মদ উল্লাহ বলেন, যখন মারামারি হয়েছে তখন আমরা সেখানে ছিলাম না। মূলত কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এবিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা মডেল থানার পুলিশ পরির্দশক (ওসি তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। উভয়পক্ষের আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খাইরুল ইসলাম/এসএইচএ