স্বামী তালাক না দেওয়ায় গৃহবধূর বাবার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

মাদারীপুরের রাজৈরে স্বামী তালাক না দেওয়ায় গৃহবধূর বাবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার দুইদিন পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গত রোববার রাতে রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের বাসাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে রাজৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূর ভাই নূর মোহাম্মদ লাবিন শেখ।
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে প্রেমের সূত্র ধরে বাসাবাড়ি এলাকার সালাম শেখের মেয়ে নাসরিন আক্তারকে বিয়ে করেন প্রতিবেশী শামচু শেখের ছেলে তামিম শেখ। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মেয়ের পরিবার মেনে নেয়। তবে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা চালায় ছেলের পরিবার। বিয়ের এক বছর পর নাসরিন ও তামিমের সংসারে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নাতিসহ পুত্রবধূকে বাড়িতে তুলে নেয় তামিমের পরিবার। এরপর তামিম ইতালি চলে গেলে নাসরিনের ওপর শুরু হয় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন। সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন নাসরিন। গত রোববার সন্ধ্যায় ঈদ উপলক্ষ্যে নাসরিন তার বাবার বাড়ির উঠানে বাজি ফোটায়।
এ নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাসরিনের বাবার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে শ্বশুর সামচু শেখের লোকজন। এসময় বাধা দেওয়ায় পিটিয়ে আহত করা হয় নাসরিন বেগম, তার ভাই লামিম শেখ, ইয়াসিন শেখ ও মা শরীফা বেগমকে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী নাসরিন বেগম বলেন, আমার এক বছর বয়সী ছেলেকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এরজন্যই হামলা চালিয়েছে। কারণ আমার বাচ্চাটা না থাকলে তালাক দেওয়াতে সহজ হবে। আমার শ্বশুর-শাশুড়িসহ ওই বাড়ির লোকজন চায় না যে তামিমের সাথে সংসার করি। এর আগেও বাচ্চা পেটে থাকতে নষ্ট করতে বলেছিল। আমি এর কঠোর বিচার চাই।
অভিযুক্ত রিংকু বেগম বলেন, তাদের সব অভিযোগ মিথ্যা। তারা নিজেরাই ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাজৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনা থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে মামলা দায়ের করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আহাদুজ্জামান/এসএইচএ