নেত্রকোণার ১৮ পাম্পের কোনোটিতেই নেই অকটেন-পেট্রোল

নেত্রকোণায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। জেলার ১৮টি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতে নেই পেট্রোল ও অকটেন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেত্রকোণায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। জেলার কোনো ফিলিং স্টেশনেই নেই পেট্রোল ও অকটেন।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মোনাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড পাম্পেও পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। এর আগে ঈদের আগ থেকেই অকটেনের সরবরাহ বন্ধ ছিল বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে। আজ এই ফিলিং স্টেশনের পেট্রোল শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে পুরো জেলায় পেট্রোল ও অকটেন শূন্য হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি না থাকায় বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালক পাম্পে গিয়ে ফিরে আসছেন জ্বালানি না নিয়েই। এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে যানবাহন নিয়ে বাইরে বের হওয়া মানুষদের।
এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, আমরা কিভাবে গাড়ি চালাব এটা বুঝতে পারছি না। সরকার বলেছে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেলের মজুদ রয়েছে। কিন্তু আমরা যে পাম্পেই যাচ্ছি সেখানেই বলছে জ্বালানি নেই। এখন আমরা কি করব এটি বুঝতে পারছি না। আমার তো এই মোটরসাইকেল ছাড়া বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা নেই।
বিজ্ঞাপন
হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মোনাকো ফিলিংস স্টেশনের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, সাধারণত আমাদের এই ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা থাকে। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে এই চাহিদা প্রায় তিনগুণ হয়ে গেছে। যেমন গতকালকে আমাদের প্রায় নয় হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হয়েছে এবং আজকের বেলা সাড়ে ১১টার টার দিকে আমাদের পেট্রোলের মজুদ শেষ হয়েছে। জ্বালানি পুনরায় আমাদের এখানে পৌঁছানোর পর আমরা আবার সরবরাহ শুরু করব। তবে সেটা কখন হবে এটা এখনো বলতে পারছি না।
একদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অপরদিকে ঈদের ছুটি শেষ কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকেই নেত্রকোণার বিভিন্ন বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত টিকিট। অনেক পরিবহন নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে, আবার যানবাহন সংখ্যাও কমে গেছে। এতে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, লেগুনা করে শহর মুখী হচ্ছে মানুষ।
আন্ত:জেলা বাস টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুল মোত্তালেব বলেন, তেলের সংকটের কারণে আমাদের যাত্রী পরিবহনে কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কারণ আমাদের গাড়িগুলো পর্যাপ্ত তেল নিতে পারছে না। যার কারণে আমাদের সিডিউল অনুযায়ী গাড়ি ছাড়তে পারছি না। যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগের তৈরি হয়েছে তবে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সাধ্যমত চেষ্টা করছি যেন যাত্রীদের নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারি। এখন সবকটি পাম্পে তেল সরবরাহ পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে।
ঢাকা-নেত্রকোণা রুটের বাস চালক হাফিজ মিয়া বলেন, তেলের সংকটের কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি না। যেখানে আমাদের ১০ হাজার টাকার তেল প্রয়োজন সেখানে আমাদেরকে পাঁচ হাজার টাকার তেল দেওয়া হয়। যার কারণে রাস্তায় অন্য ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত সময় লাগে। প্রতিটি পাম্পেই গাড়ির সিরিয়াল লেগেই আছে। আমাদের ট্রিপ মারতেও তুলনামূলক সময় বেশি লাগছে।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরকে