‘হাসি আপার হাসি মুখ আর দেখা হবে না’

হাসি আপা নামে চিনতেন পুরো এলাকার মানুষ। হাসিখুশি মানুষটি সবার সাথে মিশতেন, খোঁজখবর রাখতেন। পুরো নাম মর্জিনা খাতুন হাসি। সেই মানুষটির চির বিদায়ে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হাসিকে হারিয়ে কান্না করছেন স্বজন ও এলাকার মানুষ।
বিজ্ঞাপন
দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বারখাদা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন হাসির জানাজা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুগিয়া গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় নিহতের স্বামী আবু বক্কর ও ভাই, স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
ঢাকায় বসবাসরত চিকিৎসক মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য রাজবাড়ীর পাংশা থেকে বাসে ওঠেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং সুপার ভাইজার মর্জিনা খাতুন হাসি। এর ঘণ্টা খানেক পরেই মুত্যুর খবর পান পরিবারের লোকজন।
নিহত মর্জিনা খাতুন হাসির স্বামী আবু বক্কর বলেন, আমার স্ত্রী রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুতের অধীনে পাংশা জোনাল অফিসে কর্মরত ছিল। স্ত্রী অসুস্থ ছিল। অফিস ছুটি নিয়ে তার অপারেশনের জন্য ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন। আমার দুইটাই মেয়ে। তারা বিবাহিত। মেয়েরা স্বামীসহ ঢাকায় থাকে। বড় মেয়ে এখনো পড়াশুনা করছে আর ছোট মেয়ে ডাক্তার। সে এখনও পড়াশোনা করে। ছোট মেয়ে বাসা শিফট করবে। এই দুই কারণেই আমি ২৩ তারিখে চলে গেছিলাম ঢাকায়। আমার স্ত্রী গতকাল যাচ্ছিল ঢাকায়। গতকাল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনার সংবাদ পায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, প্রতিদিন আমার স্ত্রী কুষ্টিয়া থেকে অফিস করেন। গতকাল সেই ভাবেই গিয়েছিল। মরদেহ রাত ২টায় আমরা বুঝে পেয়েছি। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করলাম।
এই বাস দুর্ঘটনাকে দায়িত্বে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন স্বজন ও এলাকার মানুষ। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেন।
এদিকে খোকসায় নিহত আয়েশা সিদ্দিকা ও ইস্রাফিলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজিবের শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞাপন
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রবিউল আলম ইভান/আরএআর