টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় একই এলাকার পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ধাপেরহাটের নিজপাড়া গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ। পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল পৌনে ৮টার দিকে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মধ্য নিজপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধারে খাটিয়ায় শোয়ানো শিশু নিরবের নিথর দেহ। ঘরের ভেতরে চলছে তার মা নার্গিস বেগমের গোসল। চারদিকে স্বজনদের কান্না আর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- নার্গিস বেগম (৪২) ও তার ছেলে নিরব (১২), সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা রেসা আক্তার (২৪) এবং দোলা বেগম (৪৫)। নার্গিস ও নিরবের বাড়ি নিজপাড়া গ্রামের মধ্য অংশে, সুলতান ও রিফার বাড়ি পূর্ব নিজপাড়ায় এবং দোলা বেগমের বাড়ি বোয়ালীদহ গ্রামে।
একই পরিবারের মা ও সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্বামী হামিদুজ্জামান। মেয়ে ও নাতির শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন নানী মমতা বেগম। এছাড়া প্রতিটি নিহতের বাড়িতেই চলছে একই শোকের মাতম। স্থানীয়রা ব্যস্ত কবর খনন ও দাফনের প্রস্তুতিতে।
বিজ্ঞাপন
নিহত নার্গিসের মামাতো ভাই মোসাদ্দেকুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে নার্গিস তার ছেলে নিরবকে নিয়ে নিজপাড়া থেকে মাদারহাটে যান। সেখান থেকে একটি রিজার্ভ বাসে করে রাত ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। পরে রাতে খবর আসে, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাদের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত নার্গিস, সুলতান মাহমুদ ও রিফা আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় একটি বেসরকারি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে তারা সবাই গ্রামে এসেছিলেন এবং বড় ছেলের বিয়েতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আনন্দ মুহূর্তই পরিণত হলো শোকে।
স্বামী হামিদুজ্জামান বলেন, ঈদের পরদিন বড় ছেলের বিয়ে হলো। সেই আনন্দ শেষ না হতেই স্ত্রী, ছেলে আর ছেলের শাশুড়িকে হারালাম। আমারও যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কাজ থাকায় যেতে পারিনি। যদি যেতাম, হয়তো আমিও আজ থাকতাম না।
বিজ্ঞাপন
ধাপেরহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন বলেন, একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়ন শোকে স্তব্ধ। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসেছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পাঁচজন।
আরকে
