বিজ্ঞাপন

রাজশাহীতে স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগকে নির্মূলের ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট সচেতন

অ+
অ-
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগকে নির্মূলের ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট সচেতন

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর। তারা প্রিভেনশন করার জন্যই সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। কিভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগকে নির্মূল করা যায় সেই ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট সচেতন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

এসময় তিনি হাম রোগের বিস্তার রোধে ভ্যাকসিনেশন বা টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে দেখা দিয়েছে। অনেকদিন যাবৎ এটি আমাদের ডায়াগনোসিস ছিল না। আমরা অনেকটাই বলতে পারতাম যে সেটি ইরাডিকেশন হয়েছিল। আপনারা জানেন যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত বছরের জানুয়ারির ৪ তারিখে প্রথম ধরা পড়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে- হামের যে ভ্যাকসিন সেই ভ্যাকসিন ক্রয়ের যে জটিলতা তখনকার ইন্টেরিয়াম গভর্নমেন্টের সময় হয়েছিল, সেই কারণেই কিন্তু এখন অনেকেই সন্দেহ করছেন সেই সমস্যার কারণেই আজকে হয়তোবা এই হামের প্রাদুর্ভাবটি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, যারা ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামটি বাস্তবায়ন করেন তারাও দীর্ঘ এক-দেড় বছরের ওপরে আন্দোলন করছেন। তাদের এই আন্দোলন করার কারণে কিংবা ট্রান্সপোর্টেশনের অভাবে কিন্তু এই ধরনের পাদুর্ভাবগুলো সাধারণত দেখা দেয়। এই ধরনের ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামগুলোকে যারা সাকসেস-সাফল্যমণ্ডিত করেন তারা দেশের জনগণের দিকে তাকিয়ে দুর্ভোগ যেন না হয় সেদিকে তাদের প্রথম নজর দেওয়া উচিত। 

বিজ্ঞাপন

সরকারের অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামটাকে কিভাবে সফল করা যায়। এই ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামটি কিন্তু এমআর ওয়ান এবং এমআর টু যেটা আমরা বলে থাকি যে নয় মাস এবং ১৫ মাসে এই ভ্যাকসিনেশনটি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে যেটি দেখা গিয়েছে যে চার মাসের বাচ্চাও কিন্তু এই মিজেলসে (হাম) আক্রান্ত হচ্ছে। যেই কারণে এটিকে গবেষণা করার প্রয়োজন আছে। জনগণকে আমরা সচেতন করতে চাই, আপনারা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। যাতে এটি জটিল আকারে ধারণ না করে।

রামেক হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ শয্যা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৯০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। যা স্বাস্থ্যসেবায় চাপ সৃষ্টি করছে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউতেও সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ১২ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

সরকার এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন এবং তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হামের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম হাসপাতালের হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহিনুল আশিক/এমএএস

বিজ্ঞাপন