বিজ্ঞাপন

জ্বালানি তেলের সংকটে বরগুনায় মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

অ+
অ-
জ্বালানি তেলের সংকটে বরগুনায় মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সারাদেশের ন্যায় বরগুনায়ও জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল। আর এর প্রভাবেই বরগুনায় অনেকটা কমেছে বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেল বিক্রি। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় মোটরসাইকেল ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩০ মার্চ) বরগুনার বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেল বিক্রির শোরুম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে এমন তথ্য জানা যায়।

অপরদিকে অনেক জেলায় জ্বালানি তেল সংগ্রহে পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলসহ চালকদের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করার নিয়ম চালু করা হলেও বরগুনায় তা শিথিল রয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল বিক্রি কিছুটা কমলেও আগের মতই স্বাভাবিক রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের আবেদন। তবে সরকারিভাবে অথবা বরগুনার জেলা প্রশাসন এমন নির্দেশনা দিলে আবেদন বাড়বে বলে জানিয়েছেন জেলা বিআরটিএ।

সরেজমিনে বরগুনার বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেল বিক্রির শোরুম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক মাসের তুলনায় মার্চ মাসে কিছুটা কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি। ঈদ, কোরবানি এবং বিশেষ কোনো দিবস বা নানা সময়ে মোটরসাইকেল বিক্রিতে কোম্পানিগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের অফার দেওয়া হয়। তবে এ বছর ঈদ উপলক্ষ্যে বেশিরভাগ কোম্পানির ডিসকাউন্ট অফার থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী মোটরসাইকেল বিক্রি হয়নি ব্যবসায়ীদের।

বিজ্ঞাপন

বরগুনার সদর রোড এলাকায় গ্রাহকদের চাহিদার শীর্ষে থাকা অন্যতম মোটরসাইকেল ইয়ামাহার শোরুম থেকে গত জানুয়ারি মাসে ৩৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি এবং মার্চ মাসে কোম্পানির ঈদ অফার চললেও বিভিন্ন মডেলের মাত্র ২৩টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও শোরুমটির সার্ভিস পয়েন্টেও কমেছে মোটরসাইকেলের সার্ভিসিং কাজ। শহরের একই এলাকার জনপ্রিয় আরেকেটি মোটরসাইকেল বিক্রির হোন্ডা কোম্পানির শোরুম থেকে গত জানুয়ারি মাসে ২০টি ফেব্রুয়ারিতে ২৪টি এবং মার্চ মাসে ২৫টি মোটরসাইকেল বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়াও হিরোর শোরুম থেকে জানুয়ারিতে ২৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও মার্চে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২০টি।

মোটরসাইকেল বিক্রি কমে যাওয়ার বিষয়ে বরগুনার ইয়ামাহা শোরুমের ম্যানেজার মো. সাগর মাহমুদ সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইয়ামাহা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মধ্যে এক নম্বর ব্র্যান্ড। প্রতি মাসেই আমাদের বিক্রির নির্দিষ্ট টার্গেট থাকে। গত দুই মাসে মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে। তবে প্রতিবছর ঈদে ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এ বছর মার্চ মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২২-২৩টি মোটরসাইকেল। এ বছর ধামাকা অফার হিসেবে ক্যাশব্যাক এবং এক্সচেঞ্জ অফার থাকলেও তুলনামূলক আমাদের তেমন বিক্রি বাড়েনি।

মোটরসাইকেল সার্ভিস পয়েন্টের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন গড়ে আমাদের সার্ভিস পয়েন্টে ১৮-২০টি মোটরসাইকেল আসলেও এখন আসে মাত্র ৫-১০টি। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় অনেকেই ঘর থোকে মোটরসাইকেল বের করছেন না। এ কারণেই সার্ভিসিং এর সংখ্যাটাও কমে গেছে। 

বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার খান মোটরসের স্বত্বাধিকারী হোন্ডা শোরুমের ডিলার আলফু খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বরগুনায় তেলের সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। গত বছর ঈদের সময় যেরকম বিক্রি ছিল, তার থেকে এ বছর অন্তত ৮-১০টি মোটরসাইকেল কম বিক্রি হয়েছে। আমাদের মনে হচ্ছে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণেই মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে।

বরগুনা সদর রোড এলাকার হিরো শোরুমের ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সবসময়ই ঈদ এবং কোরবানিতে মোটরসাইকেল বিক্রিতে বিভিন্ন ধরনের অফার দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্তও ডিসকাউন্টও থাকে। এছাড়াও ঈদ এবং কোরবানিতে অনেকেই নতুন মোটরসাইকেল কেনায় আগ্রহী থাকেন। তবে এ বছর ঈদে ৫০টির অধিক মোটরসাইকেল বিক্রি হবে ধারণা করলেও এবার অর্ধেকও বিক্রি হয়নি। জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাবেই ধারণা করছি আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে।

অপরদিকে দেশের বিভিন্ন জেলার পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহে মোটরসাইকেলসহ চালকদের বৈধ কাগজ প্রদর্শন করার নিয়ম চালু করা হলেও বরগুনায় তা এখন পর্যন্ত শিথিল রয়েছে। ফলে বরগুন বিআরটিএ অফিসে স্বাভাবিকভাবেই আগের মতোই ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করছেন গ্রাহকরা।

বরগুনা বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৌরভ কুমার সাহা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রায় ৪০০ জনের আবেদন পেয়েছি। কিন্তু মার্চ মাসে কোনো আবেদন ছিল না। তবে এপ্রিল মাসে ৩-৪ শতাধিক আবেদন আছে। এছাড়াও প্রতি মাসে ৫০-৬০টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন পাওয়া যায়। ঈদের পরে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো রেজিস্ট্রেশনের আবেদন নেই। তবে রেজিস্ট্রেশন না থাকলে পাম্প তেল দিচ্ছে না এমন খবর অন্যান্য জেলায় শুনতে পেলেও বরগুনায় এরকম কোনো নির্দেশনা নেই। ২০১৬ অথবা ১৭ সালের দিকে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা ছিল, তেল নিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স হেলমেটসহ গাড়ির কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে। সরকার যদি এমন নির্দেশনা দেয়, তহলে আমাদের এখানেও রেজিস্ট্রেশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বাড়বে। 

আব্দুল আলীম/এসএইচএ