বিজ্ঞাপন

তেল না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করলেন কৃষক

অ+
অ-
তেল না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করলেন কৃষক

‎তেল সংকটে আধুনিক কৃষিযন্ত্র চালাতে না পেরে সরাসরি কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করেছেন পাবনার এক কৃষক। এ সময় কৃষি কর্মকর্তাও মন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৩০ মার্চ) বিকেলে ঈশ্বরদীতে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন প্রায় ৪০ জন কৃষক তেল সমস্যার সমাধান জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে কার্যালয় থেকেই কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন দেন ওই কৃষক।

মন্ত্রীকে ফোন দেওয়া ওই কৃষকের নাম মো. সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ উদ্দিন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কৃষক ‘কুল ময়েজ’ নামেও পরিচিত।

তবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

‎কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ফসল আবাদেই বর্তমানে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করছেন কৃষকরা। সেঁচের জন্য শ্যালো মেশিন, মারাই কাজে হারভেস্টার, জমি চাষ দিতে পাওয়ার ট্রিলার এমনকি ওষুধ ছিটাতেও যন্ত্রচালিত স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি যন্ত্র চালাতেই ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু যন্ত্রগুলো বহন করে তেল পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভভ হয় না। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানে (ঢোপ) তেল নিয়ে আসতেন। বর্তমানে ক্যানে তেল দেওয়ার নিশেধাজ্ঞা জারির কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের তেল দিচ্ছেন না।‎

‎তিন বলেন, ট্রাকে করে শতশত লিটার তেল দেওয়া হলেও আমাদের ডোপে তেল দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে খেসারি, গমসহ অনেক জিনিস মাড়াই করা হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণ তেলের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উপজেলার শত শত কৃষক বিপাকে পড়েছেন। ট্রাকে একটু কম দিয়ে আমাদের কৃষকদের ডোপে তেল দিলে সমস্যা কোথায়?

‎মো. ময়েজ উদ্দিনের দাবি, তেল সমস্যা সমাধানে কয়েকদিন হলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের চিরকুট (স্লিপ) দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাতেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছে না। ফলে রোববার বিকেলে তারা ৪০ জন কৃষক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিনের কার্যালয়ে যান। সেখানে সমস্যার সমাধান না পেয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাকে কথা বলিয়েছেন। মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু দুই দিন পর মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাদের অনেকেই পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন

‎তিনি বলেন, জীবনেও কোনো মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে এতোক্ষণ ধরে এতো সুন্দর করে কথা বলেননি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে তিনি অনেকক্ষণ ধরে কথা বলেছেন। অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাৎক্ষণিক বিষয়টির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।

‎মো. ময়েজ উদ্দিন বলেন, পুরো দেশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের ঈশ্বরদীও কৃষি প্রদান এলাকা। কিন্তু আমাদের কৃষকদের কোনো তালিকা নেই, পরিচয়পত্র নেই। ঈশ্বরদীর কৃষি কর্মকর্তা বড় বড় কৃষকদের নামও জানেন না। ফলে আমলাদের পদে পদে বিতারিত হতে হয়। তেলের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই। তা না হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে, কৃষক ও দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।

যদি যুদ্ধ বেড়ে যায়, আর কৃষি উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশ হাহাকার পড়ে যাবে। পুরো দেশের মানুষ বিপদে পড়বে বলে অভিমত দেন তিনি। ঈশ্বরদীতে ২০২২ সালে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ৩৭ জন কৃষকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মিডিয়ার ভাইয়েরা না থাকলে এখনো জেলেই থাকতে হতো। আসলে কৃষকের কোনো দাম নেই, সার-কিটনাশকের যে দাম সে তুলনায় ফসলের দাম নেই। কৃষকের অধিকার নিয়ে সরকারকে আগে ভাবা দরকার বলে মনে করি।

‎ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়েজ উদ্দিন কৃষি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফোনের ওপার থেকে সমস্যা সমাধান করতে বলেছেন। আমরা সমস্য সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। তেলের জন্য পাম্পগুলোতে নতুন করে প্যাড ছাপাতে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, পাম্পগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সমাধান হয়ে যাবে।

‎ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ডোপে তেল নিতে গেলে অতি উৎসাহী বাইক চালকরা মারমুখী আচরণ করেন। এজন্য মূলত সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা।

‎রাকিব হাসনাত/এএমকে