বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাটে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় ৬৮ রোগী ভর্তি, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

অ+
অ-
জয়পুরহাটে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় ৬৮ রোগী ভর্তি, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৬৮ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২১ মার্চ ঈদের আগেও ডায়রিয়া রোগী ছিল। তবে ঈদের পর থেকে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে থাকে। প্রতিদিনই রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আবার অনেকেই ভালো হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এসব রোগীর মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।

বুধবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর পূর্বের ৪৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এদের মধ্যে ২৭ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৫৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আরও ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময় পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৬৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

সরেজমিনে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া ওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৪ শয্যা বেড থেকে এখন ৪৪ শয্যা করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি ছিল ৬৮ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা না পাওয়া রোগীদের জন্য মেঝেতে বিছানা পাতা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকরা বলছেন, খাবারের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়। মানুষ বিভিন্ন ধরনের খাবার খাচ্ছেন। বাসি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খাবার, অপরিচ্ছন্ন পানি, মাছি ও ধুলোবালি পড়েছে এমন খাবার গ্রহণ করায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে মায়েরা ফাস্ট ফুডসহ সব ধরনের খাবার খাওয়ায় ব্রেস্টফিডিং করা শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আবার বর্তমানে আবহাওয়াও একরকম যাচ্ছে না।

হাসপাতালটিতে বুধবার ডায়রিয়া ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, রোগী সবসময় এমনই থাকছে। কখনও কমছে, আবার কখনও বাড়ছে। তবে সচেতনা বাড়লে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। কিন্তু মানুষ বাসি বা নষ্ট খাবারসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন। এসব খাবার পরিহার করতে হবে।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, আজ (বুধবার) সকালের দিকে ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যায়। রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং হাম রোগীদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এখন ৪৪টি শয্যা রয়েছে। এরমধ্যে দুটি কেবিন আছে। আর ডায়রিয়ার পূর্বের ওয়ার্ডে হাম রোগীদের জন্য নতুন করে ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এখন হাম আক্রান্ত ৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

বিজ্ঞাপন

সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে ২৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৭১ জন। এ ছাড়া, জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষ ভর্তি হচ্ছেন। আর ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হঠাৎ করে বাড়েনি। তবুও আমরা ডায়রিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছে কি-না এবং তার কারণ কী। এটি নিয়ে আমরা কাজ করব।

চম্পক কুমার/এএমকে