বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি, ৭ দিনে এক মৃত্যু

অ+
অ-
বগুড়ায় ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি, ৭ দিনে এক মৃত্যু

বগুড়ায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে চাপ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড়। অনেক রোগী বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার অনেকেই শিশু নিয়ে ফ্লোরে অবস্থান করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৫ জন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও ১২ বছরের ঊর্ধ্বের শিশুরা রয়েছেন।

গত ২৫ মার্চ রাত ৭টা ৩০ মিনিটে জাফর মন্ডল (৬০) নামে এক ব্যক্তি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম (রনি) বলেন, ঈদের পর ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ জন রোগী আসছেন এবং অধিকাংশই দ্রুত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

তিনি আরও বলেন, ঋতু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং রোজার পর খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গরম শুরু হওয়ায় এ সময় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়া স্বাভাবিক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আলাদা ডায়রিয়া ইউনিট চালু রয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ওআরটি (ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি) কর্নার চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, পর্যাপ্ত স্যালাইনের মজুত রয়েছে এবং ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা আউটডোর কর্নার থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আব্দুল মোমিন/এএমকে

বিজ্ঞাপন