জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে টানা তিন দিন ধরে রাঙামাটিতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে জেলার ৬টি উপজেলার সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দেশের অন্যতম বৃহৎ জেলা রাঙামাটি ১০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৬টি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। কাপ্তাই হ্রদে নিয়মিত লঞ্চ চলাচলের পাশাপাশি দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পিডবোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে গত তিন দিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে রাঙামাটি শহর থেকে এসব উপজেলায় স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
শুকনো মৌসুমী কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় বড় লঞ্চসমূহ শেষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছে স্পিডবোট হয়ে ওঠে প্রধান ভরসা। বর্তমানে পানির স্তর কম থাকায় স্পিডবোটের চাহিদা বেড়েছে কিন্তু তেল সংকটের কারণে বর্তমানে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্পিডবোট ঘাটে আসা যাত্রী মো. হেলাল বলেন, আমি প্রায় সময় স্পিডবোটে মাইনিতে যাতায়াত করি। কিন্তু আজ এসে দেখি কোন স্পিডবোট চলছে না। লাইনম্যানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের অভাবে বোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরেক যাত্রী মো. রফিক বলেন, আমি লংগদু যাওয়ার জন্য ঘাটে এসেছিলাম। কিন্তু তেল না থাকার কারণে বোট চলছে না। তাই যেতেও পারছি না।
স্পিডবোট চালক মো. আরিফ বলেন, প্রতিদিন এই ঘাট থেকে ১০-১৫টি স্পিডবোট চলাচল করে। কিন্তু তেলের অভাবে গত তিন দিন ধরে স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আজকে তেল নিতে গিয়ে দেখি আমাদেরকে মাত্র ৫ লিটার করে অকটেন দিচ্ছে। এতো কম তেল দিয়ে স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়। তাই আমরা তেল নেইনি। এছাড়া আরও ৩টি পাম্পে গিয়েছি, সেখানেও তেল পাইনি।
বিজ্ঞাপন
আরেক চালক মো. মাকসুদ বলেন, গত সোমবার রাতে লংগদু রাবেতা হাসপাতাল থেকে এক ডেলিভারি রোগীর স্বজন আমাকে ফোন করেন এবং রোগীকে রাঙামাটি সদর হাসপাতাল নিয়ে যেতে বলেন। তখন আমি জানাই, তেল না থাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। পরে তারা লংগদু জোনের সহায়তায় ২৫ লিটার তেলের ব্যবস্থা করেন। এরপর আমি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রোগীকে নিয়ে রওনা দেই এবং প্রায় ১২টার দিকে রাঙামাটি পৌঁছাই। বেশি দেরি হওয়ায় পথে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীকে চট্টগ্রাম রেফার্ড করা হয় এবং সেখানে ডেলিভারির পর নবজাতকটি মারা যায়। যদি তেল থাকতো তাহলে রোগীকে নিয়ে সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হতো। এছাড়া তেল না থাকায় আমি লংগদু ফিরে যেতে পারছি না।
ট্যুরিস্ট বোট ও স্পিডবোট সমবায় সমিতির লাইনম্যান মহিউদ্দিন বলেন, আমরা তেলের বিষয় নিয়ে ডিসি, এনডিসি, জোন কমান্ডার ও এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আজকে তেল নিতে গিয়ে দেখি আমাদেরকে পাম্প থেকে মাত্র ৫ লিটার করে তেল দিতে রাজি হয়। এতো কম তেল দিয়ে স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়, তাই আমরা তেল নেইনি। আজকে পর্যন্ত তিন দিন ধরে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ পেলে স্পিডবোট চালু করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, পূর্বে একটি পাম্পে মাসে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল ও ৪০ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হতো, তখন চাহিদাও তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একই পাম্পে ৮০ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪০ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হলেও চাহিদা এত বেশি যে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই যদি নির্ধারিত নিয়ম মেনে ও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করেন তাহলে সুশৃঙ্খভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরএআর
