বিজ্ঞাপন

চৈত্রের ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে পঞ্চগড়

অ+
অ-
চৈত্রের ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে পঞ্চগড়

এপ্রিল মাসের ২ তারিখ, বাংলায় চৈত্র মাসের ১৯ তারিখ। অথচ ভোর হতেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। শীত বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার কথা থাকলেও হঠাৎ এমন ঘন কুয়াশায় বিস্মিত স্থানীয়রা। সকাল ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার কারণে সামনের কিছুই স্পষ্ট দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।
কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল রাস্তা-ঘাট, মাঠ, ফসলি জমি ও গাছপালা। কৃষিজমির ঘাসের ডগায় দেখা গেছে শীতের মতো বিন্দু বিন্দু শিশিরকণা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকার শাহিনুর ইসলাম বলেন, মার্চের শুরুর দিক থেকেই পঞ্চগড়ে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল। শীতের প্রভাব প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে যাওয়ায় আবারও শীতের আমেজ ফিরে এসেছে।

জরিফুল নামে এক ভ্যানচালক বলেন, এপ্রিল মাসে এমন কুয়াশা আগে কখনও দেখিনি। ভোরে বের হয়ে মনে হচ্ছিল যেন আবার শীত চলে এসেছে। রাস্তা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না।

বিজ্ঞাপন

বুলবুলি নামে এক গৃহিনী বলেন, ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি চারদিকে সাদা কুয়াশা। ঘাসের ওপর শিশির দেখে মনে হলো শীতকাল ফিরে এসেছে। গরমের মধ্যে এমন পরিবেশ সত্যিই অবাক করেছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বিজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে এলে জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এরপর তা ঘন কুয়াশায় রূপ নেয়।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণা বাতাস, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা, দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য, হঠাৎ বৃষ্টি হওয়া, দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে মেঘের অবস্থান এসব কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই ধরনের কুয়াশাকে সাধারণত ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

নুর হাসান/আরকে