বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুরে দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলে ধরে ফেলছে অ্যাপস

অ+
অ-
শরীয়তপুরে দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলে ধরে ফেলছে অ্যাপস

শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে মোটরসাইকেল চালকরা দিনে মাত্র একবার জেলার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে পারবেন। দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলে বিশেষ একটি অ্যাপস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত তেল মজুতের সুযোগ থাকছে না।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চালু করা এই ডিজিটাল অ্যাপসে পাম্পে তেল নিতে গেলে আগে পূরণ করতে হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ফরম। সেখানে পাম্পের নাম, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জ্বালানির ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করতে হচ্ছে। তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলার সব পেট্রোল পাম্পে শেয়ার হয়ে যাচ্ছে। ফলে একাধিক পাম্প ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করার সুযোগ আর থাকছে না অসাধুচক্রের।

ফিলিং স্টেশন মালিক ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলায় মোট ছয়টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। প্রতিদিন এসব স্টেশনে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপো থেকে স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সেই সুযোগে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক তেল সংগ্রহ করে মজুত রাখছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন চালু করেছে বিশেষ অ্যাপস-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা। যেখানে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে গেলে অ্যাপসের মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে জ্বালানি তথ্য ফর্ম। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ তথ্য চলে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে। এতে পাম্প ঘুরে ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুতের সুযোগ মিলছে না অসাধু চক্রের। ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন স্বাচ্ছন্দ্যে।

পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে এসে বিকাশের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মো. ফয়সাল বলেন, আগে অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে ১০ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করতেন। এখন অ্যাপসের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তেল সিন্ডিকেট ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর উদ্যোগ। আমরা জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

বিজ্ঞাপন

আরেক বাইকচালক রুবেল হোসাইন বলেন, একজন বাইকার দিনে একবার তেল নিলে সারাদিন চলে যায়। কেউ যদি একাধিকবার নেয়, তাহলে অন্যরা বঞ্চিত হয়। এখন যেহেতু অ্যাপসের মাধ্যমে একবার তেল নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। এখন আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে পারবে না।

মেসার্স গ্লোরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, এটি সুন্দর একটি অ্যাপস। অ্যাপসে পাম্পের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও জ্বালানির ধরন এন্ট্রি করা হয়। কেউ অন্য পাম্পে গিয়ে আবার তেল নিতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি ধরা পড়ে। এই ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না। 

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, কিছু ব্যক্তি একাধিক পাম্প থেকে তেল নিয়ে মজুত করছিল। এতে প্রকৃত গ্রাহক তেল পাচ্ছিল না। এতে করে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছিল। তাই আমরা এই সংকট ঠেকাতে গুগলের মাধ্যমে একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছি। যেখানে সকল পাম্পের তালিকা ও তেল নেওয়ার জন্য তিনটি অপশন পূরণ করতে হবে। এতে একজন বাইকার দিনে একটি পাম্প থেকে একবার তেল সংগ্রহ করতে পারবে। কেউ আর বেশি করে তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না। আমরা অ্যাপসটি ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সব সময় মনিটরিং করছি।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ বাইকারদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, এমন ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর কৃত্রিম তেল সংকট তৈরি করা সহজ হবে না।

নয়ন দাস/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন