চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটকে আইসিলেশন করে সেখানে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রেীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি কিছু ওষুধ হস্তান্তর করেন।
হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া আজকের (৩ এপ্রিল) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে ৪৬ জন রোগী (ছেলে ১৯, মেয়ে ২৭)। আজ নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরও ১২ জন শিশু। এর মধ্যে আজ ২৪ জনকে সুস্থ হওয়ার পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৩৪৯ জন হামের রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এমপি বুলবুল বলেন, "সংসদে থাকাকালীন আমি জানতে পারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট রোগীর ১০ শতাংশই আমাদের জেলায়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি; দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে।"
বিজ্ঞাপন
আক্রান্ত শিশুদের জন্য সুপেয় পানির সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে হাসপাতাল সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে একটি ওয়াটার ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, "এটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে সব সময় হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকে। অথচ এখানে ২৪ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য। এত বড় হাসপাতালে রাতে মাত্র একজন ডাক্তার ডিউটি করেন, যা শত শত রোগীর সেবা দেওয়ার জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়।" তিনি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত ডিউটি নিশ্চিত করে সেবা সচল রাখার আহ্বান জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জকে অবহেলিত জনপদ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "২৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও এখানে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ১০০ শয্যার সুযোগ-সুবিধা ও জনবল দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে সংসদীয় নোটিশ জমা দিয়েছি যাতে এই হাসপাতালটিকে দ্রুত ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।"
বিজ্ঞাপন
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, আমরা জানুয়ারি মাসের দিকে হাম রোগী পাই এবং এই রোগীগুলোকে আইসিলেশনে নিয়ে যাওয়ার কাজ করি। আমাদের হাসপাতালে একটি ইউনিট আছে- যা কিডনি বা ডায়লাইসিস ইউনিট হিসেবে ছিল। পরে আমরা সেই ইউনিটকে হাম ইউনিট করেছি। হাম এমন একটা রোগ- যা সহজেই একশিশু থেকে আরেক শিশুকে আক্রান্ত করার ঝুঁকি থাকে। তাই তাদেরকে আলাদা করার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আমাদের এই আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু আছে। তাদেরকে ভিটামিন এ সহ পূর্ণাঙ্গ চিৎকিসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরোও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ০৫ তারিখ থেকে ০৬ মাস থেকে উর্ধ্ধ বয়সী শিশুদের বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।
এই সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী ও পৌর সেক্রেটারি তহুরুল ইসলাম সোহেলসহ প্রমুখ।
মো: আশিক আলী/এসএমডব্লিউ
