বিজ্ঞাপন

ফরিদপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ-বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত ১১

অ+
অ-
ফরিদপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ-বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত ১১

ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৩টি বাড়ি ভাঙচুর ও একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাঁচ দফায় উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে মোল্লা গ্রুপ ও  তালুকদার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মোল্লা গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মশিউর মোল্লা ও জিয়া মোল্লা, আর তালুকদার পক্ষের নেতৃত্ব দেন সলেমান তালুকদার ও রবি তালুকদার।

এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ তালুকদার গোষ্ঠীর ইসমাইল তালুকদার (২৩) টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সন্ধ্যায় পুড়াপাড়া বাজারে ওষুধ কিনতে যান। ওই সময় একটি চায়ের দোকানে মোল্লা গোষ্ঠীর সাইফুল মোল্লার সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ইসমাইল তালুকদারকে মারধর করা হয়। এর জের ধরে গত পরশু (২ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সাইফুল মোল্লা ইসমাইল তালুকদারের বাড়ির সামনে গালিগালাজ করতে শুরু করলে ইসমাইলসহ তালুকদার গোষ্ঠীর কয়েকজন সাইফুল মোল্লাকে মারধর করে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাতজন পুলিশ ওই দিন থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত এলাকায় পাহারা দিয়ে আসছিল।

পুলিশের পাহারার মধ্যেই আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গোয়ালদী গ্রামটি ফাঁকা চকের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এই গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে পাঁচ দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৩টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া হেলালর মোল্লার রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় মোল্লা গোষ্ঠীর চারজন ও তালুকদার গোষ্ঠীর সাতজনসহ মোট ১১ জনকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গোয়ালদী গ্রামের বাসিন্দা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খান বলেন, এলাকায় মোল্লা ও তালুকদার এই দুই গোষ্ঠী প্রতাপশালী। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মাঝে মাঝেই এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, কম পুলিশ থাকায় প্রথম দিকে সংঘর্ষ ঠেকাতে বেগ পেতে হয়। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, এ সময় সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জহির হোসেন/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন