উত্তরের নদীবিধৌত জনপদ গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল বদলে গেছে কৃষি বিপ্লবে। জেলার চার উপজেলার ১৬৫টি চরের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি কাপাসিয়া ও বাদামের চর এলাকায় এবারের মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন কৃষিতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৩৫ হেক্টরের বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৩ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে তরমুজ। এ বছর সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে সুন্দরগঞ্জে—১৮ হেক্টর জমিতে। গত বছর এ উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল জনপ্রিয় এই রসালো ফসলের।
এছাড়া এ বছর ফুলছড়িতে ১০ হেক্টর, সদর ও গোবিন্দগঞ্জে ৩ হেক্টর করে, সাদুল্লাপুর ও সাঘাটায় স্বল্প পরিসরে চাষ হয়েছে তরমুজ। পলাশবাড়ীতে এবার তরমুজ চাষ হয়নি।
কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুন্দরগঞ্জের এসব চরের কৃষকরা আশ্বিন মাসে বালুময় জমিতে আধুনিক “মালচিং” পদ্ধতি—যেখানে পলিথিন বা শুকনো পাতা দিয়ে মাটি ঢেকে রাখা হয়, ফলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত তাপ থেকে গাছ রক্ষা পায়। পাশাপাশি ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবস্থায় অল্প পানি ব্যবহার করেই সেচ দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে পাঁচ মাসের ব্যবধানে সঠিক পরিচর্যার পর চৈত্রেই ফলন ঘরে তোলেন তারা। শুধু পরীক্ষামূলক চাষ নয়, এটি এখন লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে বলেও জানান কৃষি অফিস সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
তরমুজ চাষী কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, হাল, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন তারা।
ভাটি কাপাসিয়া গ্রামের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, আগে এই চরে কিছুই হতো না। এখন তরমুজ চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে, তাই আগ্রহও বাড়ছে। একই এলাকার আলী আজগর মন্ডলের ভাষ্য, বালির চরে এত ভালো তরমুজ হবে, ভাবিনি। এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস বলছে, এই সফলতার পেছনে রয়েছে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শ। তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সঠিক দিকনির্দেশনার কারণে অনাবাদি জমিও উৎপাদনশীল হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের কৃষিকে এগিয়ে নিতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। তরমুজের সফলতা দেখে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক এগিয়ে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারের তরমুজ চাষে এখানকার কৃষকরা সফল হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধার উপপরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার প্রত্যেকটি চর কৃষিতে সম্ভাবনাময়। ইতোমধ্যে চরের ভুট্টা -মরিচ জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি জানান, গত বছরের থেকে জেলায় এ বছর ১৩ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে তরমুজ। এছাড়া চরাঞ্চলে গম, বাদাম, তিল, কাউনসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ বাড়ছে। কৃষকের উন্নয়নে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসহ বিভিন্ন ফসলের প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।
এসএইচএ
