আগামী ২১ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা। এ পরীক্ষা সামনে রেখে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, এতে শিক্ষার্থীরা যেমন অনুপ্রাণিত হবে, তেমনি পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহও বাড়বে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের সদর ও মদনপুর এলাকার কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাড়িতে হঠাৎ উপস্থিত হন ইউএনও। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে কিভাবে ভালো ফলাফল করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল গণি এবং শ্রীপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
শ্রীপুর সরকারি এমসি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী জিলহাজ বিশ্বাস বলেন, “ইউএনও স্যার নিজে বাড়িতে এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আমাদের পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে কোন বিষয় কীভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো ফল করা যাবে, তা সহজভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতে আমি অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি।”
আলিম বিশ্বাস নামে একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা জীবনে প্রথম দেখলাম একজন ইউএনও এভাবে সন্ধ্যার পর পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে এসে পড়াশোনার খোঁজ নিচ্ছেন। এতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরও উৎসাহ পাবে। আমরা খুবই খুশি।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনিক কাজের ব্যস্ততার মাঝেও আমি চেষ্টা করছি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াওলেখার খোঁজ খবর নিতে। সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করি, এতে তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা চাই শ্রীপুরের শিক্ষার মান আরও উন্নত হোক। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের মাধ্যমে উপজেলার সুনাম বৃদ্ধি পাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এজন্য সমন্বিতভাবে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করে না, বরং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ায়। শিক্ষার মানোন্নয়নে এমন কার্যক্রম অন্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
তাছিন জামান/আরকে
