লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত আলী হোসেনের (৪৫) লাশ ফেরত দিয়েছ বিএসএফ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টায় উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৬৮/৩-এস নম্বর পিলার এলাকা হয়ে লাশটি ফেরত দেওয়া হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিগত মধ্যরাতে ওই সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হন।
নিহত আলী হোসেন ওই সীমান্ত এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
বিজিবি ও সীমান্তবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় চোরাচালানিদের সহায়তায় ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৪/৫-এস নম্বর পিলার এলাকায় শূন্যরেখায় অবস্থান করে ভারতে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা করে ৭-৮ জনের একটি দল। তাদের তাড়িয়ে দিতে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্পের সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে চক্রটি ভারতের ৫০০ গজ অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করলে দ্বিতীয়বার এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বিএসএফ। সেই গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আলী হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও আলী হোসেনের লাশ বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালে বিএসএফ তাতে সাড়া দেয়। বৈঠকে গুলির সত্যতা স্বীকার করে বিজিবির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ ও একজন স্টাফ অফিসার।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাত ৯টার দিকে উপজেলার ৮৬৮/৩-এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফ ১৫৬ ব্যাটালিয়নের শ্রীমুখ কোম্পানি কমান্ডার রাজেস কুমার ইয়াদব ভারতীয় পুলিশসহ বিজিবির কাছে লাশ ফেরত দেন। বিজিবি লাশ বুঝে নিয়ে পাটগ্রাম থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, আলী হোসেনের লাশ বুঝে নিয়ে তার বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুরাদ মুর্শিদ/বিআরইউ
