পটুয়াখালীতে নিজ শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মেহেদী হাসান (২৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার পিডিএস মাঠ সংলগ্ন ব্যাপারী বাড়ির নিজ শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মেহেদী হাসান ওই এলাকার বাসিন্দা এবং পটুয়াখালী নিউ মার্কেটের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আরিফুর রহমানের ছেলে। তিনিও একই মার্কেটে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় ৭ বছর আগে গলাচিপা উপজেলার লাবনী নামে এক মেয়ের সঙ্গে মেহেদীর বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাবার শেষে মেহেদী নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তারা দেখতে পান, মেহেদী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেহেদীর নিথর দেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরিবারের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের বোন তানজিলা বলেন, দুপুরে খাবার খেয়ে আমার ভাই রুমে ঢুকছে। এরপরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর আমরা ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে দেখতে পাই সে সিলিং এর সঙ্গে ঝুলছে। আমার বাবাকে কল দিলে সে এসে দরজা ভেঙে ফেলে। ভেতরে ঢুকে দেখতে পাই আমার ভাই আর নেই। এসময় রুমের মধ্যে দেখি ভাবির সব জামাকাপাড় পোড়ানো। সকালবেলা ভাবি তার বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিল।
নিহতের আরেক বোন সুমাইয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইয়ের বউ অন্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলে। এমনকি ভাইয়ের সঙ্গে একসাথে বিছানায় শুয়েও অন্যের সঙ্গে কথা বলে। আমাদের সামনে বসেও ভিডিও কলে অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলছে অনেকদিন। আজ সকালে রাগ করে সে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। আমার ভাই এটা মানতে পারে নাই তাই সে এমন কাজ করছে। আমরা এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী লাবনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে তারপরও আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। পরিবারের অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরকে
