বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি

অ+
অ-
এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, আপনারা জানেন যে লেবাননে এখন একটি যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের ফ্লাইট এখন সুবিধাজনক নয় যে আমরা এই মুহূর্তেই আমাদের এই মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব। আমরা সচেষ্ট আছি, খুব শিগগিরই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লেবাননে আমাদের যে মিশন আছে, তারা কাজ করছে—কীভাবে নিরাপদভাবে মেয়েটিকে (মরদেহ) আমরা শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত দুই দিন আগে লেবাননে যে হামলাটা হয়েছে, সেই হামলায় ৩০০ জনের মতো ক্যাজুয়ালটি (যুদ্ধে হতাহত) হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের একজন বাংলাদেশি মেয়ে, সে লেবাননে কাজ করতো, সে নিহত হয়েছে একটি পরিবারের সাথে। সেই পরিবারটিও নিহত হয়েছে। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায়। ইতিমধ্যে তার পরিবারের সাথে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। কথা বলা হয়েছে। এখানে তার যে বোন থাকে, সেই বোনের সাথেও আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,আমি শুধু আমার জেলার মেয়ে হিসেবে বলতে পারি যে, আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তার পরিবারকে সেই শোক সহ্য করার শক্তি দিন এবং আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

বিজ্ঞাপন

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সচেষ্ট আছে, যাতে আমাদের বাংলাদেশিরা যারা এসব দেশে আছে তারা যেন নিরাপদে থাকে। যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করতে। মিশনগুলো কাজ করছে। যেমন- লেবাননে আমাদের যে বাংলাদেশিরা আছে, তাদেরকে আমরা একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেছি এবং তারা যেন নিরাপদে থাকে, সে চেষ্টা করছি। ওই দেশগুলোতে যারা বাংলাদেশি দেশে আসতে চায়, নিরাপত্তার অভাবে—তারা যেন নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারে, সে ব্যবস্থাও আমরা করছি।

তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু বাংলাদেশিকে বিমানের একটি চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফেরত এনেছি এবং যারা আসতে চায় তাদেরও আসার ব্যবস্থা করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আটজন বাংলাদেশি এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে বিভিন্ন দেশে এবং এই প্রথম একজন নারী নিহত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকার সচেষ্ট আছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের যেসব রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছে, তারা যেন আবার কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে—সেটার জন্য বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই দেখবে এবং আমরা সচেষ্ট আছি। এটা আমাদের ম্যানিফেস্টোর একটি অংশ এবং আমরা অবশ্যই দেখব, যাতে আমাদের ভাইয়েরা যারা এতদিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে বিদেশে ছিলেন, দেশের রেমিট্যান্স ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা করেছেন, তারা যেন আবার একটি কর্মে যুক্ত হতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

জহির হোসেন/আরএআর