ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তার প্রেমিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই বর্বরোচিত ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। শনিবার জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তাররা সবাই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ভয় ও লোকলজ্জা কাটিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর পুলিশ ঢাকা ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, গত ৩১ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে উপজেলার বাগদিয়ার আইট গ্রামে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুরুতে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে আইনি সহায়তার আশ্বাস পেয়ে ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ২৬ মার্চ রাতে ভিকটিম তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রথমে ওই প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আরও কয়েকজন এসে প্রেমিককে মারধর করে সরিয়ে দেয় এবং ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে। এ সময় এক আসামি মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনার পর মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় ভিকটিমের ফুফু গত ২৭ মার্চ মহেশপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া ভিকটিমের জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী আদালতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্রাট হোসেন/বিআরইউ
