বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলেন প্রশাসক

অ+
অ-
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলেন প্রশাসক

কুমিল্লা নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। প্রতি তিন মাস পরপর জনগণের অর্থের হিসাব দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ এপ্রিল) কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গত ২৮ দিনের হিসেব তুলে ধরেন তিনি।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব খাতে মোট আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার ৬৪ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। আগের স্থিতিসহ মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৪ টাকা, যার মধ্যে ব্যয় শেষে বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৮ টাকা।

এলজিএসপিআরআরপি (কোভিড-১৯) প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ছিল ২৮ কোটি ৮২ লাখ ৪১ হাজার ২১০ টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ টাকা। ফলে এই প্রকল্পে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ২ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৬ টাকা, যা থেকে বোঝা যায় এই খাতে বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ ইতোমধ্যেই ব্যয় করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউডিসিজি প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ৭৩ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। যার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯১ টাকা এবং অবশিষ্ট রয়েছে ৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৯ টাকা। এই প্রকল্পেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এখনও ব্যয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট প্রাপ্তি হয়েছে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫১ টাকা, যার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ১৪১ টাকা। ফলে বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ২১০ টাকা। এই অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ১০৯টি প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

এ সময় প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অতীতের প্রশাসনিক কাঠামোয় দুর্নীতির প্রভাব ছিল, যার কারণে অনেক কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসন সেই চক্র ভেঙে একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

নগর উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, গোমতী নদীর দুই তীরজুড়ে একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ করা হবে এবং এর মাঝখানে থাকবে আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু। এ ছাড়া, লিবার্টি চত্বরকে পূবালী চত্বরের আদলে সম্প্রসারণ করে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফোয়ারা স্থাপন করা হবে, যা নগরীর সৌন্দর্য বাড়াবে।

সভায় কুসিক প্রশাসন তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থার একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে। এ সময় কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূইয়াসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরিফ আজগর/এএমকে