নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আলোচিত এই মামলার রায় পাঠ করবেন।
মামলার একমাত্র আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি (৩৪)। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত অদিতার পরিবার ও সচেতন মহলের দৃষ্টি এখন আদালতের রায়ের দিকে।
জানা গেছে, নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতা নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।সে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেনের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
বিজ্ঞাপন
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন অদিতাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে সে অদিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ অন্য তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রনি স্বীকার করেছিলেন, তিনি অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করেন।২০২৩ সালের ২১ জুন নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম আসামি রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অদিতির মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়েকে তার গৃহশিক্ষক আবদুর রহমান রনি নির্মমভাবে গলা কেটে এবং হাতের রগ কেটে হত্যা করেছে। আমি আমার বাচ্চার খুনির ফাঁসি চাই এবং সেই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। আজ আমার মেয়ের বিচার পেলে কাল আপনার মেয়ে নিরাপদে ঘুমাবে। আমি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব মেয়েরা নিরাপদে ঘুমাতে পারবে।
নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ সেই বহুল প্রতীক্ষিত রায়ের দিন। আমরা আশা করি, এই রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হবে। শুধু নোয়াখালী নয়, বরং সারাদেশের মানুষ আজ এই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে রাখতে হবে, এই ন্যায়বিচারের দাবিতেই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। আজ যেন সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়।
হাসিব আল আমিন/আরকে
