নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা আবারও পিছিয়েছে। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার নতুন করে আগামী ২৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার সকালে আসামি আব্দুর রহিম রনিকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে নির্ধারিত দিনে রায় না দিয়ে আদালত নতুন তারিখ ঘোষণা করলে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর অদিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। মামলায় মোট ৪১ জন বাদীপক্ষ ও ৫ জন আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতা ছিলেন নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মৃত রিয়াজ হোসেন এবং মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
বিজ্ঞাপন
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন অদিতাকে একা পেয়ে তার সাবেক গৃহশিক্ষক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়েকে গলা কেটে ও হাতের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনির ফাঁসি চাই এবং দ্রুত সেই রায় কার্যকর দেখতে চাই। আজ আমার মেয়ের বিচার হলে কাল অন্য মেয়েরা নিরাপদ থাকবে।
মো. আব্দুল আউয়াল নামের এক জেলা শহরের বাসিন্দা বলেন, এই মামলাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, নারী নিরাপত্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বারবার রায় পিছিয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার যেমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে—পরিচিত মানুষের মাধ্যমেই অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তাই শুধু বিচার নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং সামাজিক নজরদারিও জরুরি। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারই পারে এমন অপরাধ কমাতে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন কৈশোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত রায় প্রস্তুতির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
এএমকে
