বিজ্ঞাপন

বাবা মারামারি থামিয়ে দেওয়ায় মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ

বাবা মারামারি থামিয়ে দেওয়ায় মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় দুই পরিবারের মারামারি থামিয়ে দেওয়ার জেরে এক শিশু শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আক্তার রিতুর কপাল ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে উপজেলার কুটিরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত একই গ্রামের মো. রফিক শেখ ওরফে হুটা।

জানা গেছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুই শিশু বাচ্চার মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বড়দের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় ভুক্তভোগী তাসফিয়া আক্তার রিতুর বাবা মো. আনোয়ার হোসেন এবং তার নানি আকলিমা খাতুন মারামারি থামিয়ে দেন। সংঘর্ষটি ছিল রফিক শেখের পরিবার ও অন্য একটি পরিবারের মধ্যে। তবে মারামারি থামিয়ে দেওয়ায় রফিক শেখের পরিবার প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ চালাতে ব্যর্থ হয় এবং এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সেই ক্ষোভ থেকেই বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে আনোয়ার হোসেনের ওপর রাগ খাটাতে তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে রিতুর ওপর হামলা চালানো হয়। সেদিন সকালে রিতুর খালা মোছা. আখি খাতুন তাকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। সকাল আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে তারা রফিক শেখের বাড়ির সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

একপর্যায়ে রফিক শেখের নেতৃত্বে প্রায় ৬ জন মিলে রিতু ও তার খালা আখির ওপর হামলা চালায়। এ সময় রফিক শেখ কাঠের বাটাম দিয়ে ছোট শিশু রিতুর কপালে আঘাত করলে তার কপালের মাঝখানে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্যদিকে খালা আখি খাতুন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

শিশুটির খালা মোছা. আখি খাতুন বলেন, আমার মা ও রিতুর বাবা আনোয়ার হোসেন মারামারি থামিয়ে দিয়েছিল। এই ক্ষোভ থেকে আমাদের ওপর রফিক সেখ হামলা করেছেন। ছোট শিশু বাচ্চাটির কপাল একদম ফেটে গিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

শিশুটির বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মারামারি থামিয়ে দিয়েই বড় অপরাধ করে ফেলেছি। আমার মেয়েটা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েটা মেধাবী, তার রোল এক। পুরো কপালটা ফাটিয়েছে। তাদের রাগ ছিল, আমার ওপরে হামলা করতো। শিশু বাচ্চাটির এমন ক্ষতি কিভাবে করল? আমি এর বিচার চাই।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রফিক শেখ ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে ভদ্রঘাট ২নম্বর ওয়ার্ড এর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ইয়াকূব বলেন, আমরা ঘটনা শোনার পরেই হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে গিয়েছিলাম। অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়েছিলাম, সেও পলাতক আছে। আমরা বলেছি, মেয়ের চিকিৎসা করাও। যতদূর করানো যায়। আমরা সেটা করব। 

কামারখন্দ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি আপনার মাধ্যমে শুনলাম৷ পরিবার অভিযোগ দিলে, আমরা আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি দেখব। 

নাজমুল হাসান/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন