বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারে চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, অফিসে তালা

মৌলভীবাজারে চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, অফিসে তালা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকদের তলব বা মজুরি প্রদান না করায়, বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসের মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উপজেলার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা পাওনা মজুরির দাবিতে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে অফিস গেটে তালা দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। 

জানা যায়, মৌলভীবাজারের দেওয়াছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক বাগানে না থাকায় শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরি প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে। দেওরাছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু ৪/৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে চা বাগানের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। এক পযার্য়ে অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন।

দেওড়াছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাগানের একজন অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। বাগানের পক্ষ থেকে ওই নারীকে প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলন করেন। বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ চান। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাগান ব্যবস্থাপক ছুটিতে চলে যান। যেহেতু বাগানে ব্যবস্থাপক নেই, এজন্য শ্রমিকদের মজুরি আটকা পড়েছে। 

দেওরাছড়া চা বাগানের পাঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী জানান, ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। লিখিত আবেদন করেও মজুরি পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগানের কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা।

রহিমপুরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে অফিস তালা দিয়েছে বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা। কিছুদিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ রেখেছে।

এ ব্যাপারে দেওরাছড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, নারী চা শ্রমিক মারা যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ঘটনার দায় আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে; আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এরপর ছুটি নিয়ে আমি চলে আসি। আগামী শনিবার পর্যন্ত আমার ছুটি আছে। 

এসএইচএ