বিজ্ঞাপন

লঞ্চে ফেলে যাওয়া শিশুটির পরিবারকে খুঁজছে নৌপুলিশ

লঞ্চে ফেলে যাওয়া শিশুটির পরিবারকে খুঁজছে নৌপুলিশ

২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাউফলের কালাইয়া ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চে ফেলে যাওয়া আট মাস বয়সী কন্যা শিশুটির পরিবারের কোনো সন্ধান মেলেনি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে শিশুটিকে ঢাকার সদরঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

লঞ্চের সিনিয়র স্টাফ মো. আলআমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির ছবি ও তথ্য প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ শিশুর খোঁজ নিতে আসেনি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে অজ্ঞাত ওই কন্যা শিশুকে সদরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লঞ্চের যাত্রী ও স্টাফরা জানান, এর আগে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাউফলের কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পথিমধ্যে ধুলিয়া নামক লঞ্চঘাটে যাত্রী তোলার জন্য থামে লঞ্চটি। এসময় এক ব্যক্তি একটি শিশু সন্তান নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে তিনি লঞ্চের ডেকে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি তার স্ত্রী তথা শিশুটির মাকে লঞ্চে নিয়ে আসার কথা বলে অন্য যাত্রীদের কাছে শিশুটির দেখভালের অনুরোধ করে নেমে যান। কিন্তু লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ছেড়ে যাওয়ার পরও ওই ব্যক্তি আর ফিরে আসেননি। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে আশপাশে কোনো স্বজনকে দেখতে না পেয়ে যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর তত্ত্বাবধানে রাখেন।

জানা যায়, কয়ক ঘণ্টা কেটে গেলেও লঞ্চের ঘাটগুলো কিংবা পুলিশের নিকট শিশুটির সন্ধান চেয়ে কেউ যোগাযোগ করেনি। অতঃপর লঞ্চটি আজ সকালে ঢাকার সদর ঘাটে পৌঁছালে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিকেল বেলা শিশুটিকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। সদরঘাট নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা মো. সোহাগ রানা বলেন, শিশুর পরিবারকে খুঁজে পেতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিশুদের একটি সংস্থা রয়েছে বর্তমানে শিশুটিকে তাদের কাছে দেখা-শোনার জন্য দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটিও শিশুর পরিবাররের সন্ধান করছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিশুটি এখন ঢাকায় নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত শিশুর সন্ধান  চেয়ে পরিবারের সদস্য কিংবা অন্য কেউ আমাদের নিকট যোগাযোগ করেনি।

সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এমএএস

 

বিজ্ঞাপন