বৃষ্টি আর কাদাপানিতে ২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দাফন

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৭ জুলাই ২০২১, ০৪:২৩ এএম


বৃষ্টি আর কাদাপানিতে ২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দাফন

হাওরের মাঝে কবরস্থান। যাওয়ার জন্য নেই কোনো রাস্তা। ধানের জমিগুলোতে হাঁটু পর্যন্ত কাদাপানি। তার মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি। হাতে ধরা লাশ আর গায়ে সাদা পিপিই।‌ এভাবে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে শেখ বোরহান উদ্দিন রহ. ইসলামী সোসাইটির (বিআইএস) সদস্যদের।

সোমবার (৬ জুলাই) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বিরাইমাবাদ এলাকার শেখ শফিকুর রহমান তালুকদার। তার লাশ দাফন ও কাফনের দায়িত্ব নেয় বিআইএস।

একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে পুরো পথজুড়ে হাঁটু অবধি কাদাপানি। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও করোনায় মৃতের লাশ দাফন করেছেন টিমের সদস্যরা। জানাজার নামাজে আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত হলেও কবরস্থানের পাশে ছিলেন না কেউ। কয়েকজনের দেখা মিললেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছেন তারা।

বিআইএস’র চেয়ারম্যান এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, মানুষের এমন নিষ্ঠুরতা আমাদের ব্যথিত করে। একসময় অতি আপনজন কিংবা স্বজন বা প্রিয়জন, অথবা বন্ধুত্বের বন্ধন; শেষ বিদায়ের দিনে তাদের এমন নিরাপদ দূরত্ব সত্যি সত্যি আমাদের ভাবায়। আমরা তো তার স্বজন নই, তারপরও এগিয়ে এসেছি। মানবতার খাতিরে। করোনায় মৃত্যু, এটা তো তার দোষ নয়। তাহলে কেন শেষ বিদায়ের সময় আমরা তার পাশে দাঁড়াব না?

তিনি আরও বলেন, শেখ শফিকুর রহমান তালুকদার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ আব্দুর রউফ তালুকদার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দ্রুত টিমের সদস্যদের প্রস্তুত করি। দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহণ করে মরহুমের নিজ বাড়ি একাটুনা ইউনিয়নের বিরাইমাবাদে নিয়ে যাই। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সাড়ে ৩টা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে কাওয়াদিঘী হাওরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের উদ্দেশে রওনা দেই।

মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ২৫টি দাফন ও সৎকার করেছি। একেকটি দাফনে গিয়ে একেক রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেকে জানাজায় শরিক হয়েছেন কিন্তু লাশ কিংবা কবরের পাশে কেউ আসেননি।

কিন্তু আমাদের দৃঢ় মনোবল, যতই ক্লান্তি আসুক, আমাদের মানবিক কাজ থেমে থাকবে না- বলেন বিআইএস’র চেয়ারম্যান।

ওই দলের স্বেচ্ছাসেবক হাসান আহমদ বলেন, আগে কোনো মৃত ব্যক্তির দাফনে এত কষ্ট করতে হয়নি। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে কবরস্থানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। প্রায় দুই কিলোমিটার পানি আর কাদামাটি ঠেলে কাউয়াদিঘীর হাওরে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে।

দাফনে অংশ নেন বিআইএস’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব, টিম লিডার আশরাফুল খাঁন রুহেল, সাংগঠনিক সচিব সোহান হোসাইন হেলাল, দফতর সচিব সিরাজুল হাসান, মো. সোহানুর রহমান সোহান, সিরাজুল ইসলাম, কামরান আহমদ চৌধুরী, তিতুমীর আহমেদ, শিপন আহমেদ, কামরুল ইসলাম তপু, হাসান আহমদ প্রমুখ। 

ওমর ফারুক নাঈম/ওএফ

Link copied