এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২০২৬ সালের নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া অভিযোগ উঠেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দৌলতপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন কেন্দ্র সচিব ও দুইজন কক্ষ পরিদর্শককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর পরই আমরা দেখি এটি ২৫ সালের প্রশ্ন। আমরা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার হলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়ায় বিপাকে পড়ে যাই। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরই আমরা শিক্ষকদের বিষয়টি জানাই। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর স্যাররা আমাদের ২৬ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়। অতিরিক্ত ৩৫ মিনিট সময় দিয়েছিল। আমরা কিছুই লিখতে পারিনি। আমাদের একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল।
পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদের ফলাফলের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্রী এবং কিশোরীনগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুজন ছাত্রী ও একজন ছাত্র ছিল।
পরীক্ষাকেন্দ্রে কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন দৌলতপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বালিরদীয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বায়রুল ইসলাম ও ভূরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাশেদা খাতুন।
কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র একসঙ্গে টেবিলে রাখা ছিল। ভুলবশত শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
কক্ষ পরিদর্শক রাশেদা খাতুন জানান, প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে বুঝতে পেরে দ্রুত প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, প্রশ্ন বিভ্রাটের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব আমাকে তৎক্ষণাৎ অবহিত করেননি। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে অভিভাবককে জানালে তারা এসে কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা বলেন। তখন কেন্দ্র সচিব আমাকে বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট তিনজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট পরে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ৩৫ মিনিট তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি তৎক্ষণাৎ বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। তারা রোল নম্বর দিতে বলেছেন। পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর পাঠানো হয়েছে।
রবিউল আলম ইভান/এসএইচএ
